নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইয়োবে রাজ্যে একটি বিশেষায়িত সামরিক প্রশিক্ষণ স্কুলে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৭ জন শিক্ষানবিস পুলিশ কর্মকর্তা (ট্রেইনি পুলিশ) নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৬ মে) গভীর রাতে বুনি ইয়াডিতে অবস্থিত ওই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভারী অস্ত্রে সজ্জিত জঙ্গিরা প্রশিক্ষণ স্কুলটি লক্ষ্য করে একাধিক দিক থেকে সুপরিকল্পিত এবং সমন্বিত আক্রমণ চালায়। জাতীয় পুলিশের মুখপাত্রের দেওয়া তথ্যমতে, নিহত পুলিশ কর্মকর্তারা সেখানে একটি বিশেষ অপারেশনাল প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। হামলার আকস্মিকতায় প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পর, নিকটস্থ সেনানিবাস থেকে নাইজেরীয় সেনাবাহিনীর একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তীব্র এই বন্দুকযুদ্ধে সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকজন কনিষ্ঠ কর্মকর্তাও প্রাণ হারিয়েছেন বলে সামরিক সূত্রে জানা গেছে।
তবে নিরাপত্তা বাহিনীর এই পাল্টা অভিযানে হামলাকারীরাও বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। নাইজেরীয় সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ তীব্র প্রতিরোধের মুখে অন্তত ৫০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। বাকি হামলাকারীরা বিপুল ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়ে পার্শ্ববর্তী বনাঞ্চলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। বর্তমানে ওই এলাকাটি সম্পূর্ণ সিলগালা করে সেনাবাহিনী ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।
নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গত প্রায় দুই দশক ধরে বোকো হারাম এবং ইসলামিক স্টেট পশ্চিম আফ্রিকা প্রদেশ (আইএসডব্লিউএপি)-এর মতো কট্টরপন্থী ইসলামপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় রয়েছে। এই দীর্ঘস্থায়ী বিদ্রোহ ও সহিংসতায় এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখ লাখ নাগরিক। বুনি ইয়াডির এই হামলাটিকে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর চালানো অন্যতম বড় ও সুপরিকল্পিত আক্রমণ হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

