চীনের হুনান প্রদেশের লিউইয়াং শহরে একটি আতশবাজি কারখানায় শক্তিশালী বিস্ফোরণে অন্তত ২১ জন নিহত এবং ৬১ জন আহত হয়েছেন। সোমবার স্থানীয় সময় বিকেলে হুয়াশেং ফায়ারওয়ার্কস কারখানায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকার ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকার ৩ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়।
ভয়াবহ এই ঘটনার পর উদ্ধার অভিযানে নেমেছেন প্রায় ৫০০ কর্মী। ভবনের ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আটকে পড়াদের শনাক্ত করতে ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক রোবট। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারখানার ভেতরে থাকা দুটি গানপাউডার গুদাম উদ্ধারকাজের সময় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং দ্বিতীয় দফায় কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে পুরো এলাকা আর্দ্র রাখার বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ।
বিস্ফোরণের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কারখানা থেকে ১ কিলোমিটার দূরের আবাসিক ভবনের জানালার কাচ ও দরজার ফ্রেম দুমড়েমুচড়ে গেছে। উড়ে আসা পাথরের আঘাতে গ্রামবাসীদের চলাচলের পথও রুদ্ধ হয়ে পড়েছে। আতশবাজি উৎপাদনের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত লিউইয়াং শহরের এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং নিখোঁজদের দ্রুত খুঁজে বের করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার নির্দেশ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার পাশাপাশি দায়ীদের কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, চীনে আতশবাজি কারখানায় এ ধরনের প্রাণঘাতী বিস্ফোরণ নতুন নয়; গত ফেব্রুয়ারি মাসেও হুবেই প্রদেশে একই ধরনের দুর্ঘটনায় ১২ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। বারবার এমন ঘটনায় দেশটির কলকারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে।

