প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেছেন, দেশের সামরিক বাহিনীকে আরও আধুনিক ও জনমুখী করতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ভবিষ্যতে বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করবে সশস্ত্র বাহিনী। মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের তৃতীয় দিনের অধিবেশন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
একটি পেশাদার ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সামরিক উপদেষ্টা। তিনি জানান, বাহিনীর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং যোগ্য জনবল বাছাইয়ে জেলা প্রশাসকদের সক্রিয় সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। ড. শামছুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন যে, বিগত নির্বাচনে সেনাবাহিনীর অর্পিত দায়িত্ব পালনে জেলা প্রশাসকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন, যা প্রশাসনের দুই স্তরের মধ্যে আস্থার প্রতিফলন।
দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও উন্নয়নের স্বার্থে ভবিষ্যতে সিভিল প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে কর্মসম্পর্ক আরও গভীর করার জন্য ডিসিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে অধিবেশনে জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা মনে করেন, মাঠ পর্যায়ে দুই প্রশাসনের এই সেতুবন্ধন দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, গত ৩ মে চার দিনব্যাপী এই ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবারের সম্মেলনে মাঠ প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোট ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৪৯৮টি প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হচ্ছে। সম্মেলনে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং ই-গভর্ন্যান্সের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রাধান্য পাচ্ছে। আগামী ৬ মে এই সম্মেলন শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

