ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সার্বিক কর্মকাণ্ডের বৈধতা নিয়ে আবারো আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বর্তমান প্রশাসন। এই সরকারের আমলে নেওয়া বিভিন্ন আইনি সিদ্ধান্ত, প্রণীত আইন, সংস্কার কমিশনের কার্যক্রম এবং দেশি-বিদেশি চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মুহাম্মদ মুহসিন রশিদ গত রোববার জনস্বার্থে এই আবেদনটি দাখিল করেন, যা সোমবার আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
রিট আবেদনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালীন বিভিন্ন কর্মকাণ্ড অনুসন্ধানের জন্য একটি বিশেষ কমিশন গঠনের আর্জি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখার আবেদন করেছেন রিটকারী। আবেদনে বিবাদী করা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আজ দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিং করার কথা রয়েছে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর।
এর আগেও ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের গঠন প্রক্রিয়া ও শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট আবেদন করেছিলেন এই একই আইনজীবী। তবে তৎকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ সেই আবেদনটি খারিজ করে দেন। পরবর্তী সময়ে আপিল বিভাগও হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিলেন, সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণে জরুরি প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি এই সরকার গঠন করতে পারেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট রাষ্ট্রপতির বিশেষ রেফারেন্সের ভিত্তিতে এই অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন আপিল বিভাগ সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই সরকারকে বৈধতা দিয়েছিলেন। তবে সরকারের মেয়াদ ও একের পর এক গৃহীত সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ায় এই নতুন রিট আবেদনটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

