প্রধান খবর

বৃষ্টিতেই পথ হারিয়েছে বাংলাদেশ, সিরিজ হার এড়িয়ে খুশি নিউজিল্যান্ড

ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের এক সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করল বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে প্রথম ম্যাচ জিতে সিরিজে এগিয়ে থাকলেও মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শেষ ম্যাচে হারের তেতো স্বাদ পেতে হয়েছে স্বাগতিকদের। শনিবার সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে বৃষ্টির নাটকীয়তায় খেই হারিয়ে বাংলাদেশ ডিএলএস পদ্ধতিতে ৬ উইকেটে পরাজিত হয়। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজটি ১-১ সমতায় অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়েছে।

মিরপুরে টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ৪৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে যখন দল ধুঁকছিল, তখনই নামা বৃষ্টি ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে দেয়। প্রায় দেড় ঘণ্টার অনাকাঙ্ক্ষিত বিরতির পর ম্যাচের দৈর্ঘ্য ১৫ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। বৃষ্টির আগে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৬.৪ ওভারে ৫০ রান। তবে খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর ব্যাটাররা নিজেদের ছন্দ আর ফিরে পাননি। অধিনায়ক লিটন দাস দ্রুত বিদায় নেওয়ার পর তাওহিদ হৃদয় ও শামীম হোসেন লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও মাত্র ১৬ রানের ব্যবধানে শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে ১০২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।

সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই কিউই শিবিরে কাঁপন ধরিয়েছিলেন শরিফুল ইসলাম। এই বাঁহাতি পেসারের তোপের মুখে পড়ে মাত্র ২৫ রানেই ৩ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। তবে শুরুর সেই ধাক্কা সামলে নেন বেভন জ্যাকবস ও ডিন ফক্সক্রফট। পঞ্চম উইকেটে তাদের ৭১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি কিউইদের সহজ জয় নিশ্চিত করে। ফলে ২০ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় সফরকারীরা।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হারের পেছনে দেড় ঘণ্টার বৃষ্টি বিরতিকেই মূল কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন অধিনায়ক লিটন দাস। তিনি জানান, বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার সময় তিনি এবং হৃদয় একটি বড় জুটি গড়ার পথে ছিলেন, কিন্তু দীর্ঘ বিরতি ব্যাটিংয়ের মোমেন্টাম পুরোপুরি নষ্ট করে দিয়েছে। লিটনের মতে, বৃষ্টির পর উইকেটের আচরণ বদলে যাওয়া এবং দ্রুত উইকেট হারানোই তাদের বড় সংগ্রহের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে হারের মাঝেও শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক।

অন্যদিকে সিরিজ হার এড়িয়ে উচ্ছ্বসিত কিউই অধিনায়ক নিক কেলি। তিনি তার দলের ডেথ ওভারের বোলিং এবং তরুণ ব্যাটারদের দায়িত্বশীলতার প্রশংসা করেন। কেলি স্বীকার করেছেন যে, পুরো সিরিজে শরিফুলের বোলিং তাদের বেশ ভুগিয়েছে, তবে শেষ ম্যাচে দলীয় সংহতির কারণে তারা ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছেন।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *