প্রধান খবর

যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিধ্বস্ত, সকল আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস হিল কান্ট্রিতে একটি ব্যক্তিগত বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ পাঁচ আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় নিহত যাত্রীদের সবাই পিকেলবল খেলোয়াড় ছিলেন। তারা সান আন্তোনিওর অদূরে নিউ ব্রাউনফেলস শহরে আয়োজিত একটি টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উইম্বার্লি এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। ঘটনাস্থলেই পাইলট ও চার যাত্রীর মৃত্যু হয়। নিহতদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ না করা হলেও অ্যামারিলো পিকেলবল ক্লাব নিশ্চিত করেছে যে, আরোহীরা তাদের ক্লাবের সদস্য ছিলেন। এই শোকাবহ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবারের নির্ধারিত টুর্নামেন্টটি বাতিল করা হয়েছে এবং শনিবার নিহতদের স্মরণে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, সেসনা ৪২১সি মডেলের দুই ইঞ্জিনের বিমানটি টেক্সাসের অ্যামারিলো থেকে উড্ডয়ন করে নিউ ব্রাউনফেলস ন্যাশনাল এয়ারপোর্টের দিকে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত আকাশচিত্র অনুযায়ী, বিমানটি একটি গভীর জঙ্গলঘেরা এলাকায় আছড়ে পড়ে বিধ্বস্ত হয়। বর্তমানে ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। অ্যামারিলো পিকেলবল ক্লাবের সভাপতি ড্যান ডায়ার এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে চারজনই তার দীর্ঘদিনের পরিচিত এবং দক্ষ খেলোয়াড় ছিলেন। খেলাটির প্রতি তাদের গভীর অনুরাগের কারণেই তারা আকাশপথে এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের তথ্য থেকে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় আকাশে একই গন্তব্যের আরেকটি বিমানও ছিল। ওই দ্বিতীয় বিমানের পাইলট জানিয়েছিলেন যে, তিনি প্রথম বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারছিলেন না।

রাডার তথ্যে দেখা যায়, সেসনা বিমানটি হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে গতিপথ পরিবর্তন করে এবং একপর্যায়ে রাডার থেকে পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যায়। কন্ট্রোল টাওয়ার জানিয়েছে, বিমানটি থেকে চূড়ান্ত মুহূর্তে একটি জরুরি সংকেত পাঠানো হয়েছিল, যার পরপরই জরুরি সেবা সংস্থা ৯১১-কে অবহিত করা হয়। জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় আকাশ মেঘলা ছিল এবং এর কয়েক ঘণ্টা পরেই ওই এলাকায় প্রবল ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। প্রতিকূল আবহাওয়া বা যান্ত্রিক ত্রুটি এই দুর্ঘটনার পেছনে দায়ী কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *