প্রধান খবর

ইতালিতে ছোট ভাইকে হত্যা: ভিডিও কলে মরদেহ দেখাল বড় ভাই

ইতালির লেইজ শহরে বড় ভাইয়ের হাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন ছোট ভাই। পারিবারিক কলহের জেরে বড় ভাই হুমায়ুন ফকির তার আপন ছোট ভাই নয়ন ফকিরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন। নৃশংস এই ঘটনার পর বড় ভাই ভিডিও কলের মাধ্যমে বাংলাদেশে অবস্থানরত পরিবারের সদস্যদের রক্তাত্ত মরদেহ দেখান এবং হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।

নিহত নয়ন ফকির এবং ঘাতক হুমায়ুন ফকির মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পশ্চিম সোনারং গ্রামের দেলু ফকিরের সন্তান।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘাতক হুমায়ুন ফকির দীর্ঘ ১২ বছর ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন। তিনি প্রথমে লিবিয়া হয়ে ইতালিতে পাড়ি জমান। দীর্ঘ সময় প্রবাসে থাকার পর২০২৩ সালে বড় ভাই হুমায়ুনের সহায়তায় ছোট ভাই নয়ন ফকিরও ইতালিতে যান। সেখানে দুই ভাই একসাথেই বসবাস করতেন।

হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানা যায়, হুমায়ুন ফকির দুটি বিয়ে করেছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) তার প্রথম স্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে তালাক দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ছোট ভাই নয়ন ফকির তার ভাইয়ের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন এবং প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিতে নিষেধ করেন। এই নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও চরম বিরোধের সৃষ্টি হয়।

একপর্যায়ে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে ইতালির লেইজ শহরে নিজ বাসগৃহে হুমায়ুন উত্তেজিত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নয়নের ওপর হামলা চালান। ঘটনাস্থলেই নয়নের মৃত্যু হলে হুমায়ুন দেশে স্বজনদের ফোন করে ভিডিও কলে নৃশংস এই দৃশ্যের বর্ণনা দেন।

এ বিষয়ে টঙ্গীবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ডাবলু সংবাদমাধ্যমকে জানান, “পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে ইতালিতে এক ভাইয়ের হাতে আরেক ভাই খুনের সংবাদটি আমরা শুনেছি। নিহতের পরিবার থেকে আমাদের মৌখিকভাবে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। এটি যেহেতু বিদেশের মাটিতে সংঘটিত অপরাধ, তাই আইনি প্রক্রিয়া ও মরদেহ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয়ের প্রয়োজন হবে।”

এদিকে পশ্চিম সোনারং গ্রামে দেলু ফকিরের বাড়িতে এখন শোকের মাতম চল

ইতালির স্থানীয় পুলিশ ঘাতক হুমায়ুন ফকিরকে গ্রেফতার করেছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রবাসী সূত্রগুলো জানিয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *