প্রধান খবর

পুতিন-আরাগচি বৈঠক: মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ক্রেমলিনের হস্তক্ষেপ চাইছে তেহরান

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার পারদ কমাতে এবার রাশিয়ার সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছে তেহরান। ওমান ও পাকিস্তানে সংক্ষিপ্ত কিন্তু ঝটিকা সফর শেষ করে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সেখানে আজ সোমবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসছেন তিনি।

মস্কোয় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতের বরাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’ এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আল-জাজিরা’ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, থমকে যাওয়া যুদ্ধবিরতি আলোচনা পুনরায় সচল করাই আরাগচির এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য। বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা যে ত্রিদেশীয় সংকটের সৃষ্টি করেছে, তা নিরসনে ক্রেমলিনের প্রভাবকে কাজে লাগাতে চায় তেহরান। বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পুতিনের পাশাপাশি রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভও উপস্থিত থাকবেন। আরাগচি তেহরানের পক্ষ থেকে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় রাশিয়ার সরাসরি মধ্যস্থতা ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের প্রস্তাব দেবেন।

গত কয়েকদিন ধরে আব্বাস আরাগচি এক নিবিড় কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। গত রবিবার দ্বিতীয় দফার পাকিস্তান সফর শেষে তিনি সরাসরি রাশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে দুইবার ইসলামাবাদ সফর করে তিনি পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই অঞ্চলে অবস্থান করলেও আরাগচি মার্কিন প্রতিনিধির সঙ্গে সরাসরি কোনো বৈঠকে মিলিত হননি। বরং ওমান ও পাকিস্তানের মাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার পর রাশিয়ার মতো পরাশক্তির সঙ্গে চূড়ান্ত সমন্বয়ের পথ বেছে নিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রভাব বলয়কে চ্যালেঞ্জ করতে রাশিয়া একটি ভারসাম্যকারী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। ইরান মনে করে, রাশিয়ার মধ্যস্থতা কেবল ইসরায়েলি আক্রমণাত্মক অবস্থানকেই সংযত করবে না, বরং ওয়াশিংটনকেও কূটনৈতিক টেবিলে নমনীয় হতে বাধ্য করবে।

সেন্ট পিটার্সবার্গের এই বৈঠক থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট শান্তি প্রস্তাব বা ‘রোডম্যাপ’ উঠে আসে কি না, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল। যদি পুতিন এই সংকটে সরাসরি হস্তক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দেন, তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির সমীকরণ আমূল বদলে যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *