বিদেশের আকাশ যতই নীল হোক, ডলারের ঝনঝনানি যতই মোহ জাগাক মনের গভীরে কোথাও এক শূন্যতা থেকেই যায়। সেই শূন্যতা পূরণ হয় না নতুন শহরের আলোয়, কিংবা প্রবাসের আরামদায়ক জীবনে। মন বারবার খুঁজে ফেরে চিরচেনা গ্রামের মাটি, বাতাস, মানুষের মুখ। সেই টানেই বেঁচে থাকেন কামাল হোসেন।
ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায় থাকলেও তাঁর ভেতরের মানুষটি এখনো দহলজানের ছেলে সিরাজগঞ্জের নদী, মাঠ আর মানুষের সঙ্গে যার হৃদয়ের বন্ধন ছিন্ন হয়নি কখনো।
প্রবাসে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিনপির আহ্বায়ক হিসেবে। কাজের ব্যস্ততা, বিদেশের নিয়মতান্ত্রিক জীবন কিছুই তাঁকে ভুলিয়ে দিতে পারে না । রাজপথের সেই দিনগুলো, যখন তিনি তরুণ বয়সে মানুষের পাশে দাঁড়াতে শিখেছিলেন। তাঁর স্মৃতিতে এখনো ভাসে উত্তাল স্লোগানের শব্দ, মানুষের ভিড়, আর সেই রাজসিক ভাষণগুলো, যা কাঁপিয়ে দিত অন্যায়ের বুক।
১৯৭৫ সালে সিরাজগঞ্জের দহলজান গ্রামে জন্ম নেওয়া কামাল হোসেন বড় হয়েছেন এক সাদামাটা পরিবারে। পিতা ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক। শৃঙ্খলা, ন্যায়বোধ আর মানবিকতার শিক্ষা যিনি ছেলের মনে গেঁথে দিয়েছিলেন ছোটবেলা থেকেই। মা ছিলেন নিবেদিত গৃহিণী, যিনি শিখিয়েছেন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আনন্দ।
তরুণ বয়সেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তখন তাঁর লক্ষ্য ছিল খুব সরল প্রান্তিক মানুষের কথা বলা, তাদের সমস্যাকে দৃশ্যমান করা। সময়ের সঙ্গে তিনি বুঝতে শেখেন, রাজনীতি মানে শুধু বক্তব্য নয়; এটি মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনার দীর্ঘ, ধৈর্যের পথ।
পেশাগতভাবে তিনি একজন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। কিন্তু পেশার বাইরে তাঁর আরেকটি পরিচয় আছে নিজ এলাকার মানুষের প্রতি গভীর টান। সিরাজগঞ্জ-রায়গঞ্জ-শলঙ্গা অঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে তাঁর ভাবনা বহুদিনের। একসময় তিনি ওই আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। মনোনয়ন পাননি, কিন্তু তাতে তাঁর মন ভাঙেনি। কারণ তাঁর কাছে রাজনীতি মানে ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং একটি বৃহত্তর কাঠামোর অংশ হয়ে কাজ করা।
অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস তাঁকে দিয়েছে নতুন অভিজ্ঞতা বহু সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে কাজ করা, নেতৃত্বের দক্ষতা বাড়ানো। কামাল হোসেন প্রবাসে থেকেও তিনি নিজের এলাকার মানুষের কথা ভাবেন, তাদের উন্নয়নের স্বপ্ন দেখেন, এবং সুযোগ পেলে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে চান।

