তিন দিনের এক শুভেচ্ছা সফরে মঙ্গলবার দুপুরে ভারতের রাজধানী দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার গঠনের পর বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রীর এটিই প্রথম দিল্লি সফর, যা দুই দেশের কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফরে তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানামুখী ইস্যু নিয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নেবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এই সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দিল্লিতে অবস্থানকালে খলিলুর রহমান কেবল পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেই নয়, বরং দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গেও পৃথক বৈঠকে মিলিত হবেন। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আজ সন্ধ্যায় অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমেই তার সফরের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। মূলত পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই এই সফরের মূল লক্ষ্য।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এবারের আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভিসা সহজীকরণ, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন ও দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো স্পর্শকাতর ও জরুরি ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে বৈঠকে বিদ্যুৎ ও তেল আমদানির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অগ্রগতির আশা করছে ঢাকা।
দিল্লি সফর শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান মরিশাসের পোর্ট লুইসে অনুষ্ঠেয় ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে যোগ দেবেন। আগামী ৯ এপ্রিল সকালে দিল্লি থেকে একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে তিনি এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর একই সঙ্গে মরিশাসের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে ১১ ও ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠব্য সম্মেলনে অংশ নিয়ে তারা আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিষয়গুলো নিয়ে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এই সফরের মধ্য দিয়ে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কে নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

