উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, নিরাপদ পরিবেশ এবং পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের চমৎকার সুযোগের কারণে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে নিউজিল্যান্ড বর্তমানে অন্যতম শীর্ষ পছন্দ। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য দেশটিতে পরিবারসহ বসবাসের সুযোগ থাকায় দিন দিন এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ডের সাম্প্রতিক নীতিমালা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তাদের স্বামী/স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে নিতে পারেন।
কাজের সুযোগ ও সময়সীমা: নিউজিল্যান্ডে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা সেমিস্টার চলাকালীন সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২৫ ঘণ্টা কাজ করার সুযোগ পান। তবে মধ্যবর্ষের ছুটি কিংবা বড়দিন ও নববর্ষের মতো দীর্ঘ ছুটিতে শিক্ষার্থীরা পূর্ণকালীন বা ফুল-টাইম কাজ করার অনুমতি পেয়ে থাকেন।
পরিবার স্পনসর করার নিয়ম: শিক্ষার্থী ভিসাধারীরা তাদের সঙ্গী ও সন্তানদের জন্য ‘পার্টনার অব আ স্টুডেন্ট ভিজিটর ভিসা’ এবং ‘চাইল্ড অব আ স্টুডেন্ট ভিজিটর ভিসা’ স্পনসর করতে পারেন। তবে এই ভিসার অধীনে কাজ বা পড়াশোনার সুযোগ পাওয়া সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে শিক্ষার্থীর কোর্সের ধরন ও যোগ্যতার ওপর।
জীবনসঙ্গীর ওয়ার্ক ভিসা: সাধারণত মাস্টার্স বা পিএইচডি (লেভেল ৯ বা ১০) কোর্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গীরা নিউজিল্যান্ডে ওয়ার্ক ভিসা পাওয়ার যোগ্য হন। এছাড়া লেভেল ৭ বা ৮ কোর্সের শিক্ষার্থীরা যদি দেশটির ‘গ্রিন লিস্ট’ ভুক্ত পেশার সাথে সম্পর্কিত বিষয়ে পড়াশোনা করেন, তবে তারাও তাদের সঙ্গীর জন্য ওয়ার্ক ভিসা স্পনসর করতে পারেন। বিশেষ করে পিএইচডি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই সুবিধাগুলো সবচেয়ে বেশি কার্যকর।
সন্তানদের পড়াশোনার সুযোগ: পিএইচডি প্রোগ্রাম, অনুমোদিত এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম অথবা সরকারি স্কলারশিপে (MFAT) পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা তাদের সন্তানের জন্য সরাসরি স্টুডেন্ট ভিসা স্পনসর করতে পারেন। কোনো শিক্ষার্থী সরাসরি স্পনসর করতে না পারলে, তার সঙ্গী ওয়ার্ক ভিসা পাওয়ার পর সন্তানের দায়িত্ব নিতে পারেন। এছাড়া ছোট শিশুদের দেখাশোনার জন্য বাবা-মা ‘গার্ডিয়ান ভিজিটর ভিসা’ নিয়ে সেখানে অবস্থানের সুযোগ পান।
প্রয়োজনীয় নথি ও সতর্কতা: সব ধরনের ভিসার আবেদনের ক্ষেত্রে সম্পর্কের যথাযথ প্রমাণ হিসেবে বৈধ বিবাহ সনদ বা সন্তানের জন্ম সনদ দাখিল করা বাধ্যতামূলক। নিউজিল্যান্ডের ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, আবেদনকারীদের অবশ্যই নির্ধারিত শর্ত ও আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, নিউজিল্যান্ডের এই নমনীয় ইমিগ্রেশন নীতি মেধাবী শিক্ষার্থীদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়েই উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পথ প্রশস্ত করেছে।

