আসন্ন সাধারণ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করলে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে লাঠিপেটা ও পাথর মেরে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক। রোববার দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বারাক।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তার আশঙ্কা নেতানিয়াহু আগামী নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করতে পারেন এবং তার হাতে তা করার মতো উপায়ও রয়েছে। বারাকের দাবি, যদি তিনি এমন কোনো পদক্ষেপ নেন, তাহলে জনগণ রাস্তায় নেমে তাকে লাঠিপেটা ও পাথর মেরে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেবে। তার ভাষায়, এটি হবে জনগণের আত্মরক্ষার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।
৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহু ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ইসরায়েলের বর্তমান কট্টর ডানপন্থী জোট সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। নেসেটের বর্তমান মেয়াদ শেষ হবে আগামী অক্টোবরে, আর নির্বাচন হওয়ার কথা সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের মধ্যে। বারাকের মতে, নেতানিয়াহু লেবাননে সামরিক অভিযান শুরু করে নির্বাচন বিলম্বিত বা বানচালের চেষ্টা করতে পারেন, যা হিজবুল্লাহ ও ইরানকে প্রতিক্রিয়া জানাতে উসকে দিতে পারে।
তিনি অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু একটি অন্তহীন যুদ্ধ চান, কারণ যুদ্ধ শেষ হলে তার বিরুদ্ধে চলমান বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত এগোবে। ঠিক যেভাবে তিনি হামাসের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তিতে বাধা দিয়েছেন, একইভাবে লেবানন ইস্যুতেও অগ্রগতি নস্যাৎ করেছেন। বর্তমানে নেতানিয়াহু দুর্নীতির মামলায় বিচারাধীন এবং গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পরোয়ানাভুক্ত আসামি।
সাক্ষাৎকারে বারাক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিরও তীব্র সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, “এটি এক কথায় খারাপ, দুই কথায় খুব খারাপ।” তিনি সতর্ক করে বলেন, নেতানিয়াহুর অহংকার ও দূরদর্শিতার অভাবের মূল্য ইসরায়েলকে চোকাতে হচ্ছে। বর্তমানে আলোচনায় থাকা বিষয়টি কোনো পূর্ণাঙ্গ চুক্তি নয়, বরং একটি সমঝোতা স্মারক যা ক্ষেপণাস্ত্র বা ইরানের আঞ্চলিক মিত্রদের কোনো সমস্যারই সমাধান করতে পারেনি।

