দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটাতে অবশেষে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকে ইলেকট্রনিক উপায়ে যৌথ স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে এই চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চুক্তিটিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্বাক্ষর করেছেন।
মার্কিন প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে জানান, “প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই দীর্ঘমেয়াদি সংকটটিকে একটি সফল এবং চূড়ান্ত সমাধানের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতী। শান্তি প্রক্রিয়ায় নিজের আন্তরিকতা ও সুদৃঢ় নিষ্ঠা প্রদর্শন করতেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই চুক্তিতে ডিজিটাল স্বাক্ষর করতে চেয়েছেন।”
যদিও এই ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের বিষয়ে ইরানের সরকারি পর্যায় থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য বা বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের ঠিক আগেই ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা শেয়ার করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের ‘ঐতিহাসিক প্রতিরোধের’ পর দেশ এখন ‘চূড়ান্ত বিজয়ের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ’ নিয়েছে। স্পিকারের এই বক্তব্যকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা শান্তি চুক্তিরই একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
বর্তমানে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ (G7) শীর্ষ সম্মেলনে অবস্থান করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, চুক্তিটির ডিজিটাল রূপরেখা তৈরি হলেও এর আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর ন অনুষ্ঠিত হবে আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে। সেই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও আশ্বস্ত করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ বদলে দেওয়া এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মূল খসড়া দলিলটি খুব শিগগিরই সর্বসাধারণের দেখার জন্য উন্মুক্ত ও প্রকাশ করা হবে। এই চুক্তির ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সামরিক ও অর্থনৈতিক উত্তেজনার পারদ অনেকটাই প্রশমিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

