প্রধান খবর

আজারবাইজানের JF-17 ব্লক-৩ যুদ্ধবিমান বহরে যুক্ত হচ্ছে তুরস্কের ‘ASELPOD’ পড!

আজারবাইজানের বিমান বাহিনী সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্কের প্রতিরক্ষা জায়ান্ট আসেলসান (Aselsan)-এর কাছ থেকে ৪০টি অত্যাধুনিক ‘ASELPOD’ ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল টার্গেটিং পড সংগ্রহের চুক্তি করেছে। এই উচ্চ প্রযুক্তির পডগুলি মূলত ব্যবহার করা হবে পাকিস্তান থেকে কেনা JF-17 ব্লক-৩ যুদ্ধবিমানে।

তুরস্কের তৈরি ‘ASELPOD’ পড হচ্ছে একটি উচ্চ-রেজোলিউশনের ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল টার্গেটিং সিস্টেম, দিন-রাত ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় আকাশ পথে দীর্ঘ দূরত্ব থেকে নজরদারি, রিকর্নিসেন্স এবং বিশেষ করে লেজার-গাইডেড অস্ত্রের মাধ্যমে নির্ভুল আক্রমণ পরিচালনার জন্য ডিজাইন ও তৈরি করা হয়েছে।

আসলে, ‘ASELPOD’ পড বর্তমানে তুরস্কের বিমান বাহিনীর এফ-১৬ যুদ্ধবিমান এবং আধুনিকায়নকৃত এফ-৪ই (২০২০) ফ্যান্টম-২ মডেলের যুদ্ধবিমানের জন্য তৈরি করা হয়েছে। আর এখন এই সিস্টেমটির রপ্তানির তালিকায় পাকিস্তান ও আজারবাইজানের নাম অন্তর্ভুক্ত হলো।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রাথমিক চুক্তির পর, ২০২৫ সালের জুনে আজারবাইজান পাকিস্তানের সঙ্গে প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় অস্ত্র ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির আওতায় ৪০টি JF-17 ব্লক-৩ (৪.৫+ প্রজন্মের) মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি এই প্যাকেজে পাইলট প্রশিক্ষণ, লজিস্টিক সাপোর্ট, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় অস্ত্র সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়।

পাকিস্তান ইতোমধ্যেই গত ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রথম ব্যাচের ৫টি বিমান (৪টি এক-সিটার, ১টি দুই-সিটার) আজারবাইজানের বিমান বাহিনীর কাছে হস্তান্তর সম্পন্ন করেছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের ৮ নভেম্বর আজারবাইজানের বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে এই বিমানগুলি প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে আকাশে উড়ে দেখা যায়।

জেএফ-১৭ থান্ডার লাইট ওয়েট যুদ্ধবিমানটি পাকিস্তান ও চীনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হয়। এর সর্বশেষ আধুনিক মডেল হচ্ছে ব্লক-৩ সিরিজের যুদ্ধবিমান। পাকিস্তান এই প্রজেক্টের অন্যতম অংশীদার হলেও বাস্তবে এই যুদ্ধবিমানের ৮০% প্রযুক্তি ও অস্ত্র চীন কিংবা অন্য দেশের তৈরি।

জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমানের ব্লক-৩ সংস্করণে অত্যাধুনিক রাডার সিস্টেম হিসেবে চীনের তৈরি KLJ-7A অ্যাক্টিভ ইলেক্ট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে (AESA) রাডার ব্যবহার করা হয়েছে, যা একসঙ্গে একাধিক লক্ষ্য শনাক্ত ও ট্র্যাক করতে সক্ষম।

এছাড়া, এতে উন্নত ককপিট ও অ্যাভিওনিক্স সিস্টেম হিসেবে হেলমেট-মাউন্টেড ডিসপ্লে (HMD) ও ডিজিটাল গ্লাস ককপিট ইনস্টল করা হয়েছে, যা এয়ার কমব্যাট মিশনে পাইলটের সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

বর্তমানে জেএফ-১৭ থান্ডার ব্লক-৩ সিরিজের যুদ্ধবিমানে রাশিয়ার তৈরি RD-93MA আফটারবার্নিং টার্বোফ্যান ইঞ্জিন ব্যবহার হচ্ছে। তবে, অদূর ভবিষ্যতে এর পরিবর্তে চীনের WS-13 অথবা পাকিস্তান-তুরস্কের যৌথ প্রকল্পের জেট ইঞ্জিন ব্যবহার করা হতে পারে।

এই যুদ্ধবিমানের সাতটি হার্ডপয়েন্টে প্রায় ৩,৬৫০ কেজি পর্যন্ত মিসাইল ও অন্যান্য অস্ত্র বহন করতে সক্ষম। এর প্রধান এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল হিসেবে রয়েছে দূরপাল্লার PL-15E (১৪৫-২০০ কিমি রেঞ্জ) এবং মাঝারি পাল্লার PL-12 মিসাইল।

এটি CM-400AKG অ্যান্টি-শিপ মিসাইলের পাশাপাশি পাকিস্তানের নিজস্ব প্রযুক্তির তৈরি ‘রাদ’ ক্রুজ মিসাইল ও বিভিন্ন ধরণের লেজার-গাইডেড ও আন-গাইডেড মিউনিশন বহন করতে পারে। পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে যাত্রা শুরুর পর থেকে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় প্রায় ৬-৭টি JF-17 বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে।

পরিশেষে বলা যায়, পাকিস্তান ও চীনের যৌথ উদ্যোগে এটি ডিজাইন ও তৈরি করা হলেও চীনের তার নিজস্ব বিমানবাহিনীতে এই যুদ্ধবিমান কখনোই অন্তর্ভুক্ত করেনি। এটি মূলত পাকিস্তান ও অন্যান্য মিত্র দেশের জন্য একটি রপ্তানিমুখী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে রাখতে চায় চীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *