মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির অনিশ্চয়তা বিবেচনায় বিকল্প উৎস খোঁজা এবং জরুরি কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। সোমবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় এক বার্তায় এসব তথ্য জানায়।
বার্তায় বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর বৈশ্বিক আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মাত্র চার সপ্তাহে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
এরই মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার নেপাল, ভুটান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, মালদ্বীপ ও শ্রীলংকায় অকটেন ও ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ফিলিপাইন ‘জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে।
এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে বড় পরিসরে ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। ভারতের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে যারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় ৩০ দিনের বিশেষ অনুমতি পেয়েছে বাংলাদেশও আগামী দুই মাসে রাশিয়া থেকে ৬ লাখ টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা করেছে।
গত ১৮ মার্চ ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে অনুষ্ঠিত এক সভায় যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি দপ্তরের কাছে নিষেধাজ্ঞা মওকুফের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুত ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ চুক্তি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যাতে বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলা স্থিতিশীল রাখা যায়।

