প্রধান খবর

ইরান যুদ্ধ: এক মাসে তেলের দাম বাড়ল রেকর্ড ৫৯ শতাংশ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নতুন নতুন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে। ইরানকে ঘিরে সংঘাতের মধ্যে এবার লোহিত সাগর পর্যন্ত উত্তেজনা বিস্তৃত হওয়ায় তেলের দাম বাড়ছে রেকর্ড গতিতে। সংঘাত শুরুর পর মাত্র এক মাসে তেলের দাম বেড়েছে রেকর্ড ৫৯ শতাংশ। ব্রেন্ট ক্রুডের দামে এই নজিরবিহীন উল্লম্ফন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হয়ে উঠছে বড় সতর্কবার্তা।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত বিস্তৃত হওয়ায় সোমবার তেলের দাম আরও বেড়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সপ্তাহান্তে প্রথমবারের মতো ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর ব্রেন্ট তেলের দাম রেকর্ড মাসিক বৃদ্ধির পথে রয়েছে। সোমবার দিনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩.০৯ ডলার বা ২.৭৪ শতাংশ বেড়ে ১১৫.৬৬ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগের দিন শুক্রবার এটি ৪.২ শতাংশ বেড়েছিল।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ২.৯২ ডলার বা ২.৯৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২.৫৬ ডলারে পৌঁছেছে, আগের সেশনে যা ৫.৫ শতাংশ বেড়েছিল।

রয়টার্স বলছে, চলতি মাসে ব্রেন্ট তেলের দাম প্রায় ৫৯ শতাংশ বেড়েছে, যা ১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময়কার মূল্যবৃদ্ধিকেও ছাড়িয়ে গেছে। ইরান সংঘাতের কারণে কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। গত শনিবার ইয়েমেনের হুথিরা প্রথমবারের মতো ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর আরব উপদ্বীপ ও লোহিত সাগরের নৌপথ নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে।

জেপি মরগানের বিশ্লেষক নাতাশা কানেভার নেতৃত্বে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এই সংঘাত এখন আর শুধু পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে সীমাবদ্ধ নেই; এটি লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও বিস্তৃত হয়েছে, এটি বিশ্বে তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ।’

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব হরমুজ প্রণালির পরিবর্তে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে তেল রপ্তানি বাড়িয়েছে। গত সপ্তাহে এই পথে তেল রপ্তানি দৈনিক ৪.৬৫৮ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছায়। জেপি মরগানের বিশ্লেষকদের মতে, ইয়ানবু বন্দর থেকে রপ্তানি ব্যাহত হলে সৌদি তেলকে মিসরের সুয়েজ-মেডিটেরেনিয়ান (সুমেদ) পাইপলাইনের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরে পাঠাতে হতে পারে।

এদিকে চলমান সংঘাত ও হামলা-পাল্টা হামলা আরও তীব্র হয়েছে এবং যুদ্ধবিরতির আলোচনা শুরুর চেষ্টা চললেও ওমানের সালালাহ টার্মিনালে হামলা হয়েছে। এতে টার্মিনালটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র স্থল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং প্রয়োজনে তারা জবাব দিতে প্রস্তুত। তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, ইসলামাবাদে আলোচনায় যুদ্ধ দ্রুত ও স্থায়ীভাবে শেষ করার সম্ভাব্য পথ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *