ইসলামের ইতিহাসে সাহাবায়ে কেরাম ছিলেন নৈতিকতা, ইবাদত ও মানবিকতার সর্বোত্তম উদাহরণ। তারা যেমন আল্লাহর ইবাদতে নিষ্ঠাবান ছিলেন, তেমনি বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার ক্ষেত্রেও ছিলেন অনন্য। তাদের জীবনাচরণ আজও মুসলমানদের জন্য অনুসরণীয় আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হয়।
হাদিসে বর্ণিত রয়েছে, দুই সাহাবি ওসমান ইবন আফফান (রা.) ও হারেসা ইবনে নোমান (রা.) তাদের মায়েদের প্রতি বিশেষভাবে অনুগত ছিলেন। ওসমান (রা.) ইসলাম গ্রহণের পর থেকে মায়ের প্রতি এতটাই শ্রদ্ধাশীল ছিলেন যে, কখনো সরাসরি তার চোখের দিকে তাকাতেন না। অন্যদিকে হারেসা (রা.) নিজ হাতে মাকে খাওয়াতেন এবং তার কোনো কথা বুঝতে অসুবিধা হলে সরাসরি জিজ্ঞাসা না করে অন্যদের মাধ্যমে জেনে নিতেন যা তার গভীর সম্মানবোধেরই বহিঃপ্রকাশ।
একইভাবে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-এর পিতৃভক্তির একটি ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এক সফরে তিনি এক বেদুইন ব্যক্তিকে সম্মান জানিয়ে নিজের বাহনে আরোহন করান এবং পাগড়ি উপহার দেন। পরে তিনি জানান, ওই ব্যক্তির পিতা তার পিতা ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তিনি নবী করিম মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা অনুসরণ করেই এ আচরণ করেন, যেখানে পিতামাতার বন্ধুদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাকে নেক আমল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পবিত্র কোরআন-এও বাবা-মায়ের প্রতি সদাচরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখানে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত না করা এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে উত্তম আচরণ করা। এমনকি তাদের বার্ধক্যে ‘উফ’ শব্দটিও উচ্চারণ না করে বিনয় ও দয়ার সঙ্গে আচরণ করতে বলা হয়েছে।
ইসলামের শিক্ষায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম প্রধান উপায় হলো বাবা-মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও দায়িত্ব পালন। সাহাবিদের জীবনের এসব ঘটনা প্রমাণ করে, তারা শুধু কথায় নয়, বাস্তব জীবনে এই শিক্ষার সর্বোচ্চ প্রয়োগ ঘটিয়েছেন।

