আফ্রিকার শীর্ষস্থানীয় এয়ারলাইন্স হিসেবে বর্তমানে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স বৈশ্বিক পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। ২০২৫ সালে স্কাইট্র্যাক্স (Skytrax) তালিকায় তারা বিশ্বের সেরা ১০০ এয়ারলাইন্সের মধ্যে ৩৮তম স্থানে রয়েছে। যদিও ২০২৪ সালের তালিকায় এই এয়ারলাইন্স সংস্থাটি ৩৫তম স্থানে ছিল।
১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স ধাপে ধাপে উন্নতির পথে এগিয়েছে। প্রথমে সীমিত আন্তর্জাতিক রুটে তাদের কার্যক্রম শুরু করলেও একবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই তারা বৈশ্বিক পর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
সিনহুয়া নিউজের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে শুরু হওয়া ইথিওপিয়ার অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৪.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রাজস্ব আয় করে। এটি স্বল্প আয়ের একটি দেশ হিসেবে ইথোপিয়ার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বর্তমানে তাদের বিমান বহরে প্রায় ১৭০টি এয়ারক্রাফট রয়েছে। এর মধ্যে ১৫০টি যাত্রীবাহী এবং ২০টি কার্গো বিমান রয়েছে। এছাড়া নতুন করে এয়ারবাস ও বোয়িং–এর কাছে আরও ৯৭টি নতুন বিমানের অর্ডার দিয়েছে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স।
উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স বর্তমানে নিজ দেশে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মোট প্রায় ১৬১টি যাত্রীবাহী রুট পরিচালনা করছে। পাশাপাশি প্রায় ৬৮টি কার্গো রুট রয়েছে তাদের। এছাড়া, গত ২০২৪ সালের নভেম্বরে তারা ঢাকা থেকে আদ্দিস আবাবা পর্যন্ত নতুন রুট চালু করে সংস্থাটি।
বৈশ্বিক সুনাম অর্জনের পাশাপাশি নিজ দেশের জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি বড়ো ধরনের অবদান রাখছে। ২০২৫ অর্থবছরে তাদের রাজস্ব আয় ছিল প্রায় ৭.৬ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৪% বেশি। একই সময়ে তারা ১৭.১ মিলিয়ন যাত্রী পরিবহন করেছে এবং ৭,১৩,৮৭৫ টন কার্গো বহন করেছে।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এয়ারলাইন্সটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে তাদের প্রায় ১৮ হাজার কর্মী রয়েছে। আধুনিক বিমান বহর, দক্ষ কর্মী এবং উন্নত গ্রাহকসেবার মাধ্যমে তারা আফ্রিকার শীর্ষ এয়ারলাইন্স হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে।
এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে আদ্দিস আবাবার বোলে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ তাদের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করেছে। নতুন টার্মিনাল চালু হওয়ায় এখন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা সহজ হয়েছে। একই সঙ্গে, তারা “ভিশন ২০২৫” ও “ভিশন ২০৪০” পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আফ্রিকার শীর্ষ এভিয়েশন গ্রুপ হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
ইথিওপিয়ার বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১৩৯ মিলিয়ন হলেও অর্থনৈতিকভাবে দেশটি খুব শক্তিশালী নয়। ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী দেশটির নমিনাল জিডিপি প্রায় ১২৫.৭৪ বিলিয়ন ডলার এবং মাথাপিছু আয় ১,১২০ ডলার। এই সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও তারা সততা ও কর্ম দক্ষতার মাধ্যমে নিজেদের একটি বিশ্বমানের ফ্ল্যাগশিপ এয়ারলাইন্স গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।
লেখা: সিরাজুর রহমান

