প্রধান খবর

স্বপ্নের বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা হাতছাড়া হলেও পুরো পারিশ্রমিক পাচ্ছেন ওমর আরতান

বিশ্বকাপের মহামঞ্চে রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালনের আজন্ম স্বপ্ন ভেঙে গেলেও আর্থিকভাবে কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন না সোমালিয়ার তারকা রেফারি ওমর আরতান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি বা ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ায় চলতি টুর্নামেন্টে অংশ নিতে না পারলেও, তাকে পুরো বিশ্বকাপের পারিশ্রমিক দেওয়ার এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

গত সোমবার (১৪ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সোমালিয়ার এই রেফারিকে চরম হেনস্থার শিকার হতে হয়। মার্কিন অভিবাসন কর্মকর্তারা প্রায় ১১ ঘণ্টা ধরে আরতানকে আটকে রেখে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরবর্তীতে তার কাছে থাকা বৈধ কূটনৈতিক পাসপোর্ট ও একবার প্রবেশের (সিঙ্গেল এন্ট্রি) ভিসা থাকা সত্ত্বেও তাকে দেশটিতে ঢোকার অনুমতি না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন বিভাগের এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে মার্কিন ভূখণ্ডে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এই গুরুতর অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন আরতান। তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় সোমালিয়ার কুখ্যাত সশস্ত্র গোষ্ঠী আল-শাবাবের সঙ্গে তার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সে বিষয়ে জেরা করা হয়। উত্তরে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, ওই উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে তার দূরতম কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

আমেরিকা থেকে এভাবে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ফেরত পাঠানোর পর তুরস্কে অবস্থানরত ফিফা কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে আরতানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি ও লজিস্টিক সহায়তা দেন। এরপর তিনি সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুতে ফিরে যান। চরম হতাশা প্রকাশ করে ৩৪ বছর বয়সী এই রেফারি বলেন, ‘আমার কাছে প্রয়োজনীয় সব বৈধ কাগজপত্র ও সঠিক ভিসা ছিল। বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করা ছিল আমার ক্যারিয়ার ও জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।’

বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, টুর্নামেন্টে দায়িত্ব পালনকারী রেফারিরা খেলা শেষ হওয়ার পরই কেবল তাদের নির্ধারিত পারিশ্রমিক পান। তবে আরতানের ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনায় ফিফা তাকে টুর্নামেন্টের পূর্ণ পারিশ্রমিক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর পাশাপাশি এই বড় ধাক্কার মাঝেই একটি দারুণ সুখবর পেয়েছেন তিনি। আগামী ১২ আগস্ট অস্ট্রিয়ার সালজবুর্গে অনুষ্ঠিতব্য মর্যাদাপূর্ণ ‘উয়েফা সুপার কাপ’-এর ম্যাচ পরিচালনার জন্য তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই জায়ান্ট ক্লাব পিএসজি ও অ্যাস্টন ভিলা।

সোমালিয়ায় ফিরে দেশের মাটিতে উষ্ণ সংবর্ধনা পেয়েছেন ওমর আরতান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপের স্বপ্ন তার এখানেই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। ২০৩০ সালের পরবর্তী বিশ্বকাপে রেফারি হিসেবে অংশ নেওয়ার নতুন লক্ষ্য ও উদ্যম নিয়েই তিনি এখন থেকে প্রস্তুতি শুরু করতে চান। উল্লেখ্য, ২০২৫ সাল ছিল তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সফল বছরগুলোর একটি। ওই বছরই তিনি প্রথম সোমালি রেফারি হিসেবে কোনো মহাদেশীয় ক্লাব প্রতিযোগিতার ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা করার গৌরব অর্জন করেন। এছাড়া অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ ও আফ্রিকা কাপ অব নেশনসেও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে নিজের অবস্থান শক্ত করেছিলেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *