কুড়িগ্রামের উলিপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে গুরুতর আহত অবস্থায় দুই ভারতীয় নাগরিক রংপুর মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাংলাদেশি চোরাকারবারি সন্দেহে নির্মম নির্যাতন ও গুলি চালানোর পর তাদের বাংলাদেশ সীমান্তে ফেলে রেখে যায় বিএসএফ সদস্যরা। ইতোমধ্যে হাসপাতালে আহতদের শরীরে সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হলেও পেটে গুলিবিদ্ধ একজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা।
আহত দুই ভারতীয় নাগরিক হলেন ভারতের আসাম রাজ্যের দক্ষিণ শালমারা মানকাচর জেলার বড়বালু এলাকার বাসিন্দা ও পেশায় রাজমিস্ত্রি ইসমাইল হোসেন এবং একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আলীম।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, গত রোববার রাতে কুড়িগ্রামের উলিপুর সীমান্ত এলাকায় গরু চোরাচালানের অভিযোগে ভারতীয় ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে তাদের আটক করে বিএসএফ। এ সময় তারা ভারতীয় নাগরিক পরিচয় দেওয়া সত্ত্বেও ‘বাংলাদেশি চোরাকারবারি’ সন্দেহ করে তাদের ওপর বেধড়ক লাঠিপেটা করা হয়। একপর্যায়ে তাদের নৌকায় তুলে এনে বাংলাদেশ সীমান্তের জিরো পয়েন্টে সরাসরি লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে চলে যায় বিএসএফ সদস্যরা। পরবর্তীতে স্থানীয় বাংলাদেশি সাধারণ জনগণ ও মাঝিদের সহায়তায় প্রথমে তাদের উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রংপুর ডিবি পুলিশের সহযোগিতায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের বিছানায় চিকিৎসাধীন আহত ইসমাইল হোসেন জানান, তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। নিজ বাড়ির মহিষ বাঁধতে গেলে বিএসএফ সদস্যরা তাকে জোরপূর্বক বাংলাদেশি দাবি করে নির্যাতন চালায় এবং নৌকায় এনে সরাসরি গুলি করে পালিয়ে যায়।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ জানান, গভীর রাতে ভর্তি হওয়া রোগীদের শরীরে মারাত্মক ক্ষত ও হাড় ভাঙার আলামত পাওয়া গেছে। একজনের পেটের অবস্থা বেশ গুরুতর হওয়ায় নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জানান, চরম মানবিক দিক বিবেচনায় দুই ভারতীয় নাগরিককে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ওষুধ, প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা ও সার্বিক সর্বোত্তম সুচিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।

