প্রধান খবর

পিরোজপুরে বেকুটিয়া সেতুর লোহার পাইপ চুরি করতে গিয়ে ১০ জন গ্রেপ্তার, অভিযুক্তদের ছাড়াতে বিএনপি নেতার সুপারিশ

পিরোজপুর সদর উপজেলার কঁচা নদীর ওপর নির্মিত ঐতিহাসিক বেকুটিয়া ‘অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু’র পিলারের সুরক্ষায় বসানো মূল্যবান লোহার পাইপ কেটে চুরির সময় হাতেনাতে ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার গভীর রাতে সেতুর তলদেশে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি স্টিলের ট্রলার, গ্যাস সিলিন্ডার ও পাইপ কাটার বিভিন্ন ভারী সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে সোমবারে আদালতে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নদীর প্রবল স্রোত ও নৌযানের ধাক্কা থেকে সেতুর পিলারের স্থায়িত্ব ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নদীর তলদেশে এসব ভারী লোহার পাইপ স্থাপন করা হয়েছিল। রোববার রাত ১২টার দিকে চোর চক্রটি গ্যাস কাটার মেশিন ব্যবহার করে পিলারের পাশ থেকে আনুমানিক ১০০ ফুট দীর্ঘ একটি পাইপ কেটে ট্রলারে তোলার চেষ্টা চালায়। উদ্ধারকৃত পাইপটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা। খবর পেয়ে পিরোজপুর সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল আকস্মিক অভিযান চালিয়ে হাতেনাতে চক্রটিকে মালামালসহ আটক করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- হুমায়ূন হাওলাদার, মাহাবুব শেখ, আমির হোসেন, বারেক শেখ, মো. সুমন সানা, মো. মিরাজুল ফকির, মো. সাদ্দাত শেখ, মো. সিয়াম হাওলাদার, আব্দুল জব্বার ভুট্ট এবং মিরাজ শেখ। এদিকে পুলিশ হেফাজতে থাকা আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নিতে শারিকতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হেমায়েত বেপারী পিরোজপুর সদর থানায় গিয়ে জোর সুপারিশ ও তদবির চালান বলে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

থানায় বিএনপির এই নেতার অবস্থানের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার গ্রেপ্তারের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও হেমায়েত বেপারী তা অস্বীকার করেন। তার দাবি, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় মানবিক কারণে তিনি কেবল খোঁজ নিতে গিয়েছিলেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় সম্পদের এহেন চুরির ঘটনার পেছনে উক্ত রাজনৈতিক নেতার পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং চুরির পেছনে থাকা মূল ইন্ধনদাতাদের খুঁজে বের করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম খান এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা দলীয় তদন্তে প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *