দীর্ঘ সামরিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা শঙ্কার প্রেক্ষাপটে সাময়িক স্থগিত থাকার পর আবারও ইরান ও ইরাকের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্যিক বিমান চলাচল শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) থেকে ইরাকের রাষ্ট্রীয় বিমানসংস্থা ‘ইরাকি এয়ারওয়েজ’ ইরানে নিয়মিত শিডিউল ফ্লাইট পরিচালনা পুনরায় শুরু করবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ধর্মীয় পর্যটন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং চিকিৎসা যোগাযোগে বড় ধরণের গতি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইরাকের পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশটির নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে মূল বিমান যোগাযোগ পরিচালিত হবে। সেখান থেকে নিয়মিতভাবে ইরানের রাজধানী তেহরান, ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক শহর মাশহাদ এবং ইসফাহানে সরাসরি ফ্লাইট উড়াল দেবে। প্রয়োজনীয় সকল আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই এই রুটে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের চূড়ান্ত সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে।
মূলত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক সামরিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে চলতি বছরের মার্চ মাসে ইরানি রুটে নিজেদের সব ধরণের ফ্লাইট স্থগিত করেছিল সংস্থাটি। পরবর্তীতে সেপ্টেম্বরের শেষদিকে এসে আকাশসীমা ব্যবহার সংক্রান্ত নানা জটিলতা কেটে গেলে পুনরায় ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ লাঘব ও আঞ্চলিক দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতেই এই পদেক্ষেপ নিয়েছে বাগদাদ।
একই সাথে ইরাক সরকারের উর্ধ্বতন কার্যালয় জানিয়েছে, নির্দিষ্ট একটি এয়ারলাইন ছাড়া ইরানের অন্যান্য বাণিজ্যিক বিমানসংস্থাগুলোও নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪০টি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানি সংস্থা ‘মাহান এয়ার’ আপাতত এই সুবিধার বাইরে থাকছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই ফ্লাইট চালুর ফলে দুই দেশের লাখ লাখ তীর্থযাত্রী ও সাধারণ পর্যটকদের যাতায়াত আগের চেয়ে অনেক সহজ ও সাশ্রয়ী হবে।

