ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলে তিগ্রাই পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ) ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে বিদ্রোহীরা আফার অঞ্চলের কৌশলগত শহর এরেবতির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন এক কমান্ডার। সংঘাতের মধ্যে প্রতিবেশী ইরিত্রিয়া, সুদান ও মিসরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের সহায়তার অভিযোগ তুলেছে ইথিওপিয়ার সেনাবাহিনী।
ইথিওপিয়ার সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল বিরহানু জুলা অভিযোগ করেছেন, ইরিত্রিয়া টিপিএলএফকে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে এবং বিদ্রোহীদের সুদান ও মিসরের সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ইরিত্রিয়া ও সুদানও পাল্টা অভিযোগ তুলে ইথিওপিয়ার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে।
২০২০ সালের নভেম্বর থেকে ২০২২ সালের নভেম্বর পর্যন্ত টিপিএলএফ ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ চলে। পরে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় শান্তিচুক্তি হলেও রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষে আহত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থা এমএসএফ। কোরেম ও আলামাতা হাসপাতালে ৪৮ ঘণ্টায় চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা প্রায় ১৮০ থেকে বেড়ে ৪২০ ছাড়িয়েছে।
আফার পশুপালক উন্নয়ন সমিতির সহপ্রতিষ্ঠাতা ভ্যালেরি ব্রাউনিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে প্রায় দেড় লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এদিকে ইথিওপিয়ার সমুদ্রবন্দরে প্রবেশাধিকার পাওয়ার প্রচেষ্টা ঘিরে ইরিত্রিয়া ও সোমালিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা বেড়েছে। ২০২০ থেকে ২০২২ সালের তিগ্রাই সংঘাতে সহিংসতা, দুর্ভিক্ষ ও স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়ার কারণে প্রায় পাঁচ লাখ বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে গবেষকদের ধারণা।

