সর্বজনীন পেনশনব্যবস্থায় প্রথমবারের মতো শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন এ স্কিমের আইনগত ভিত্তি তৈরিতে আইনের খসড়া প্রণয়ন করে জাতীয় সংসদে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদ ইতোমধ্যে স্কিমটি চালুর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান জানিয়েছেন, শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগ, তহবিল ব্যবস্থাপনা, মুনাফা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এ বিষয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও স্থানীয় পরামর্শকরা কাজ করছেন। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থায়িত্ব নির্ধারণে অ্যাকচুয়ারিয়াল বিশ্লেষণ করা হবে।
নতুন স্কিমের পাশাপাশি বিদ্যমান পেনশনব্যবস্থায়ও কিছু সুবিধা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পেনশনারের মৃত্যুর পর তার স্বামী বা স্ত্রী ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন সুবিধা পাবেন, যা আগে ৭৫ বছর ছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পেনশন তহবিলের বিনিয়োগের বিপরীতে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ‘প্রগতি’ স্কিমে অন্তর্ভুক্তি, বিদেশগামী কর্মীদের ‘প্রবাস’ স্কিমে যুক্ত করা, নিবন্ধন প্রণোদনা ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা এবং আর্থিক কার্যক্রমে অতিরিক্ত নিরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রগতি, সুরক্ষা, সমতা ও প্রবাস এই চারটি স্কিম চালু রয়েছে। সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত এসব স্কিমে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার গ্রাহক নিবন্ধিত হয়েছেন। শরিয়াহভিত্তিক নতুন স্কিম চালুর আগে আইনগত ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

