মধ্যপ্রাচ্যে একটি টেকসই ও কার্যকর আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিবেশী দেশ ইরানের সঙ্গে ইতিবাচক ও ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত কাতার ইকোনমিক ফোরামে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। কাতারের প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, “ইরান আমাদের নিকট প্রতিবেশী। তাই পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীল হয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক ও ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা নিশ্চিত করতে হবে।” চলমান ইরান সংকট ও সামরিক উত্তেজনাকে পুরো অঞ্চলের জন্য একটি স্পষ্ট ‘সতর্ক সংকেত’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়া ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার কারণে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক সংকটের মাত্রা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো জ্বালানি রপ্তানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির জন্য এই নৌপথের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। জাহাজ চলাচল মারাত্মক বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি থমকে গেছে, যার ফলে দেশটি চলতি মাসে জরুরি গ্যাস সরবরাহের বিশেষ পরিস্থিতির মেয়াদ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।
চলমান সংকট নিরসনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশও আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন ধরনের চিন্তাভাবনার আহ্বান জানিয়েছেন। যুদ্ধ বন্ধে যেকোনো চূড়ান্ত আলোচনায় ইরান ও আরব দেশগুলোর পারস্পরিক সমঝোতাকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে জোর দেন তিনি।
অন্যদিকে, সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলা এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করার খবর পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে। রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা ও বিকল্প তেল সরবরাহ রুটগুলোতে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন চরম অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ বিরাজ করছে।

