চট্টগ্রামের পটিয়ায় ৯ বছরের এক মাদরাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে হাফেজ মো. রবিউল ইসলাম (২৪) নামের এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ভুক্তভোগী শিশুর মায়ের একটি ফোন কলের ওপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, প্রায় ২০-২৫ দিন আগে ভোররাতে ওই শিক্ষক ভুক্তভোগী ছাত্রকে ডেকে নিয়ে রান্নাঘর থেকে পানি আনতে পাঠান। শিশুটি রান্নাঘরে গেলে অভিযুক্ত শিক্ষক তার পিছু নেন এবং নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রথমবার তাকে যৌন নির্যাতন চালান। পরবর্তী সময়ে নিজের কক্ষে নিয়েও শিশুটির ওপর একাধিকবার একই ধরনের নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি শিশুটিকে ছুটিতে বাড়ি নিয়ে যান তার মা। ছুটি শেষে শিশুটি আর কোনোভাবেই মাদরাসায় ফিরে যেতে রাজি হচ্ছিল না। পরিবারের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হলে সে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং শিক্ষকের অপকর্মের সব কথা মায়ের কাছে প্রকাশ করে দেয়। ঘটনার সত্যতা জেনে ক্ষুব্ধ মা ১০ সেপ্টেম্বর সকালে শাহ মালেকিয়া তাহফিজুল কোরআন মাদরাসায় গিয়ে সরাসরি অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে জবাব চান। তবে শিক্ষক রবিউল ইসলাম নিজের অপরাধ অস্বীকার করে উল্টো অভিভাবকের সঙ্গে উদ্ধত ও খারাপ আচরণ শুরু করেন। এতে উপস্থিত স্থানীয় জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তকে গণপিটুনি দেয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় এক ব্যক্তি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানান। পরবর্তীতে ৯৯৯ থেকে পটিয়া থানাকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলে পুলিশি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উত্যক্ত জনতার হাত থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। পুলিশ জানায়, আটককৃত শিক্ষক হাফেজ মো. রবিউল ইসলামের বাড়ি কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার ফৈজানীর পাড়া গ্রামে।
এ ঘটনায় নির্যাতিত শিশুর মা বাদী হয়ে পটিয়া থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।

