বগুড়ায় ধারের টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ফল ব্যবসায়ী ওয়াহেদ হোসেন ওরফে নিঝুমকে (৩৭) পরিকল্পিতভাবে বিষ খাইয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দী করে ধানখেতে ফেলে দেওয়ার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন নাজিম উদ্দিন নামে এক আসামি।
মঙ্গলবার বগুড়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নাজিমের এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে নাজিমকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সরাসরি জড়িত থাকার কথা বিস্তারিতভাবে স্বীকার করেন।
পুলিশ ও জবানবন্দি সূত্রে জানা যায়, পূর্বে একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করার সুবাদে ওয়াহেদের সঙ্গে নাজিম ও তার সহযোগী স্বপনের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। ওয়াহেদ তার মায়ের এনজিও ঋণ থেকে স্বপনকে দুই লাখ এবং নাজিমকে এক লাখ টাকা ধার দেন। সম্প্রতি সেই পাওনা টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে চরম তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হয়। টাকা না দেওয়ার কৌশলে নাজিম ও স্বপন মিলে ওয়াহেদকে হত্যার ছক আঁকেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৭ আগস্ট বিকেলে ওয়াহেদকে মালগ্রামের ওই কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে সন্ধ্যার দিকে কফির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে তাকে পান করানো হয়। বিষক্রিয়ায় মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর নিথর দেহটি প্লাস্টিকের বস্তায় পুরে রাতের অন্ধকারে অদূরে একটি ধানখেতে ফেলে দেওয়া হয়। পরদিন সকালে দুজনই চাকরি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।
পরবর্তীতে ১২ আগস্ট পুলিশ অর্ধগলিত বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করলেও পরিচয় না পাওয়ায় তা বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। পরে পরনের পোশাক দেখে স্বজনেরা ওয়াহেদকে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় ১০ সেপ্টেম্বর মামলা দায়ের হলে পুলিশ কাহালু এলাকা থেকে নাজিমকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর আসামি স্বপনকে গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

