টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশ থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক নবজাতক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। ফুটফুটে এই ছেলে শিশুটিকে লাল রঙের একটি গামছায় মুড়ে সড়কটির পাশে ফেলে রাখা হয়েছিল। মর্মান্তিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজসংলগ্ন এলাকা থেকে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেলে মহাসড়কের পাশে একটি গামছায় মোড়ানো বস্তু পড়ে থাকতে দেখে কৌতূহলবশত এগিয়ে যান কয়েকজন পথচারী। গামছাটি সরাতেই ভেতরে এক নবজাতকের নিথর দেহ ভেসে ওঠে। দৃশ্যটি দেখে মুহূর্তের মধ্যেই আশপাশের
মানুষ জড়ো হতে থাকেন। পর মুহূর্তেই পুলিশে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া নবজাতকটি এক সদ্যজাত ছেলে শিশু। শিশুটির শরীরে প্রাথমিকভাবে আঘাত বা অস্বাভাবিকতার কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি; দেহটি স্বাভাবিক অবস্থাতেই ছিল। তবে কড়া রোদে ও মহাসড়কের মতো খোলা স্থানে ফেলে যাওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে নাকি জন্মের পরপরই তাকে মৃত অবস্থায় ফেলে যাওয়া হয়েছে-সে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। শিশুটির পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি এই অমানবিক ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ঘটনাসূত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ টিম পাঠিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটি ঠিক কীভাবে বা কার মাধ্যমে এখানে এসে পৌঁছাল, তা অনুসন্ধানে পুলিশি তদন্ত চলমান রয়েছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে এটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ ও সময় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
জনবহুল এবং ব্যস্ততম ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মতো জায়গায় প্রকাশ্যে এভাবে ফুটফুটে একটি শিশুকে ফেলে রেখে যাওয়ার মতো নির্মম ঘটনার পেছনের অপরাধীদের দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।

