সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বার্তায় ধর্মীয় সম্ভাষণ ব্যবহারের দায়ে এবার কর্মস্থল থেকে স্থানান্তরিত হতে হলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গের এক জ্যেষ্ঠ নারী আইপিএস কর্মকর্তাকে। খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে কর্মরত বুশরা বানু নিজের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কের মুখে পড়েছেন।
সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষাজীবনে পিএইচডি সম্পন্ন এবং সৌদি আরবের লাভজনক চাকরি ছেড়ে দেশে ফেরার গল্প নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে একটি অনুপ্রেরণামূলক ভিডিও তৈরি করেছিলেন বুশরা বানু। সেখানে তিনি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ‘আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি’র একটি কোচিং একাডেমির সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তুলে ধরেন। তবে ভিডিওটির শুরুতেই তিনি ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ দুটি ব্যবহার করেন, যা পরবর্তীতে বিতর্কের জন্ম দেয়।
একপর্যায়ে সরকারি পদে আসীন থেকে জাতীয় স্লোগানের পরিবর্তে ধর্মীয় সম্ভাষণ ব্যবহারের অভিযোগ এনে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামের একটি সংগঠন চটে যায়। তারা পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে উক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানায়। সেই অভিযোগ জমা পড়ার পরপরই তাকে খড়্গপুরের বর্তমান দায়িত্ব থেকে তড়িঘড়ি করে স্থানান্তর করা হয়।
আইপিএস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গৃহীত এই পদক্ষেপে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন ব্যাপক তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নেটিজেনদের একটি বিরাট অংশ সরকারের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে বলছেন, ভারতে ভিন্ন ধর্মের সরকারি কর্মকর্তারা প্রায়শই নিজেদের ধর্মীয় আচার বা সম্ভাষণ প্রকাশ করে থাকেন। সেক্ষেত্রে একজন মুসলিম কর্মকর্তা শান্তির বার্তা দিলে তা কীভাবে অপরাধের পর্যায়ে পড়ে, সে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। ঘটনার পর থেকে প্রশাসনিক ও সামাজিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।

