প্রধান খবর

যুক্তরাষ্ট্রের ৩টি অত্যাধুনিক ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি ইরানের

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-১’ (MQ-1) নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করার তীব্র দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি নতুন একটি উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোনগুলো ধ্বংস করা হয়েছে বলে আইআরজিসির পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

ইরানি সামরিক বাহিনীর তথ্যানুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর সংবেদনশীল আকাশে মার্কিন ড্রোনগুলোর উপস্থিতি টের পাওয়ার পরপরই তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্স সেগুলোকে নিজস্ব সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের আওতায় এনে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ শুরু করে। পরবর্তীতে ড্রোনগুলো কোনো ধরনের হামলা বা সামরিক অভিযান পরিচালনার আগেই ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য (সারফেস-টু-এয়ার) ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালীতে আকাশপথ ও জলসীমায় সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অঞ্চলটিতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনা নতুন মাত্রা রূপ নিয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইতিপূর্বে মার্কিন বহরে যুক্ত থাকা আধুনিক এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র অপেক্ষাকৃত পুরোনো কিন্তু কার্যকরী এমকিউ-১ মডেলের ড্রোনের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে। তবে ইরানের এই ধারাবাহিক দাবির বিপরীতে মার্কিন সামরিক বাহিনী বা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে স্বতন্ত্র কোনো প্রতিক্রিয়া বা সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।

জলপথটির ওপর নিজেদের সামরিক ও সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার বারতাই যেন দিচ্ছে তেহরানের এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপ। একই স্পর্শকাতর এলাকায় পরপর একাধিক মার্কিন নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের ভৌগোলিক নিরাপত্তায় নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *