রাজধানীর খিলক্ষেতে গৃহবধূ মুক্তাকে পাশবিকভাবে নির্যাতনের পর হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার নাটক চালানোর অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী সোহেল শিকদারের বিরুদ্ধে। আঘাতে যখন শরীরজুড়ে জখম, তখনও নির্মম নির্যাতনের মুখে স্বামীর কাছে আকুতি জানিয়েছিলেন মুক্তা। সম্প্রতি তিন মিনিটের এক হৃদয়বিদারক ভিডিওতে এই অসহায়ত্ব ও বর্বরতার চিত্র ফুটে ওঠে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, গৃহবধূ মুক্তাকে চামড়ার বেল্ট দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করছেন স্বামী সোহেল শিকদার। সে সময় পাশের ঘর থেকে তাদের দুটি অবুঝ শিশুর কান্নার শব্দ ভেসে আসছিল। তবে সন্তানদের সেই আর্তনাদও থামাতে পারেনি স্বামীর এমন পৈশাচিক আচরণ। এই পাশবিকতার ভিডিও চিত্রটি সোহেল নিজেই মুক্তার ভাইয়ের কাছে পাঠিয়ে তাকে এসে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। কিন্তু এর মাত্র দুই দিনের মাথায় খিলক্ষেতের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় মুক্তার ঝুলন্ত মরদেহ।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বেশ কিছুদিন ধরেই মুক্তার কাছে তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন সোহেল। যৌতুকের দাবি পূরণ না হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে ও নির্মম নির্যাতন চালিয়ে মুক্তাকে হত্যা করে মৃতদেহ সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়। নিহতের স্বজনরা এই ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত সোহেল শিকদারের দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মাদ সোহরাব আল হোসাইন জানান, অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে জেলহাজতে আছেন। নির্যাতনের ভিডিওটি মৃত্যুর দুদিন আগের বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে এবং ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও চিকিৎসকদের চূড়ান্ত মতামতের পর জানা যাবে।

