প্রধান খবর

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় গর্ভবতী নারীর করুণ মৃত্যু

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা ও গুলিবর্ষণে সংঘাতের ভয়াবহতা চরম আকার ধারণ করেছে। অবরুদ্ধ অঞ্চলটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসে ইসরায়েলি সেনার গুলিতে গুরুতর আহত এক গর্ভবতী নারী দীর্ঘ তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় হাসপাতাল ও চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এই মর্মান্তিক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ঘটনার সূত্রে জানা যায়, খান ইউনিসের দক্ষিণ এলাকায় চলাচলের সময় ওই নারী হঠাৎ ইসরায়েলি বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হলেও চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এ ঘটনার বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা কৈফিয়ত পাওয়া যায়নি।

জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ‘ইউএন উইমেন’-এর সর্বশেষ সাময়িক তথ্যে দেখা যাচ্ছে, গাজা উপত্যকায় চলমান ধ্বংসাত্মক যুদ্ধে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত হাজার হাজার নারী ও কিশোরী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে আহতদের সংখ্যা, যাদের একটি বড় অংশ চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, নিরবচ্ছিন্ন বোমাবর্ষণ এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকটে প্রসূতি ও গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্যসেবা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। তীব্র মানসিক আতঙ্ক, অপুষ্টি এবং সময়মতো জরুরি সেবা না পাওয়ায় সেখানে আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভপাত। সব মিলিয়ে গাজায় সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এক অভূতপূর্ব মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *