ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় ধানক্ষেতের পাশ থেকে তিনটি কার্টনে ভরা এক অজ্ঞাতনামা পুরুষের খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের বোয়ালিয়া স্ট্যান্ডসংলগ্ন নির্জন এলাকা থেকে ভয়াবহ এই অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৪০ বছর বলে ধারণা করা হলেও তাঁর নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালিয়া স্ট্যান্ড থেকে প্রায় ২০০ গজ সামনে ফরিদপুরগামী প্রধান সড়কের ডানপাশে স্থানীয় বাসিন্দা লাভলু মল্লিক ও ইছাহাক মিয়ার ধানক্ষেতের সীমানায় অবস্থিত একটি তালগাছের গোড়ায় পরিত্যক্ত অবস্থায় মুখ বাঁধা তিনটি সন্দেহজনক কার্টন পড়ে থাকতে দেখেন পথচারীরা। দীর্ঘক্ষণ কার্টনগুলো একইভাবে পড়ে থাকায় স্থানীয় অধিবাসীদের মনে প্রবল সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে স্থানীয়রা তৎক্ষণাৎ জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি বিস্তারিত জানিয়ে সহায়তা চান।
জরুরি সেবা নম্বরে বার্তা পেয়ে মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাসুদুজ্জামান সঙ্গীয় বল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয় উৎসুক জনতার উপস্থিতিতে পুলিশ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কার্টনগুলোর মুখ খোলে। সেগুলোর ভেতর থেকে পলিথিন ও কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় অজ্ঞাত যুবকের দেহের মোট ছয়টি বিচ্ছিন্ন খণ্ড উদ্ধার করা হয়। অপরাধের আলামত সংরক্ষণে পুলিশ ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।
মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাসুদুজ্জামান জানান, “ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য খণ্ডিত দেহাবশেষ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিহতের পরিচয় শনাক্ত না হলে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের নিকট অর্পণ করে সমস্ত আইনগত ও ধর্মীয় রীতি মেনে দাফন সম্পন্ন করা হবে।”
নিহতের পরিচয় উদঘাটন এবং নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য রহস্য উন্মোচনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একাধিক দল ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং অন্যান্য ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় মধুখালী থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

