ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। এসব চুক্তির মধ্যে কোনোটি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দ্রুতই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এ তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে বর্তমান সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
চিফ হুইপ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চে রেখে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় সরকার। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্য থাকবে, তবে সেই বন্ধুত্ব কোনোভাবেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কিংবা অর্থনৈতিক স্বার্থের বিরুদ্ধে যেতে দেওয়া হবে না। আগের সরকারের মেয়াদে সম্পাদিত চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করে যদি দেশের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো ধারা বা বিষয় পরিলক্ষিত হয়, তবে তা চিহ্নিত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিগত সরকারের বিভিন্ন অসম চুক্তির উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকার এমন কিছু বন্দোবস্ত ও চুক্তি করে গেছে, যেখানে দেখা যায় বাংলাদেশ এবং কোনো বন্ধুদেশের দুটি জাহাজ একই সময়ে বন্দরে পৌঁছালে বন্ধুদেশের জাহাজটিকে আগে খালাস করার অগ্রাধিকার দেওয়া হতো। দেশের স্বার্থবিরোধী ও অসম এ ধরনের নানা চুক্তি ও শর্ত থেকে বর্তমান সরকার বেরিয়ে আসার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক বিষয়েও আলোকপাত করেন। এ সময় ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ না জানানোয় তিনি গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের সরকারপ্রধানকে উক্ত সম্মেলনে আমন্ত্রণ না জানানোর ঘটনায় ভারতের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ ব্যক্ত করেন তিনি।

