চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে পৈশাচিক নির্যাতন ও সেই দৃশ্য ধারণ করে সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোবারক সরদার নামের এক চা-দোকানির বিরুদ্ধে। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা অভিযুক্তকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে চাতুর্যের আশ্রয় নিয়ে ওই কিশোরীকে নিজের বসতঘরে ডেকে নিয়ে যান অভিযুক্ত মোবারক সরদার। সে সময় ঘরে কোনো স্বজন না থাকার সুযোগে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় এবং অত্যন্ত জঘন্যভাবে সেই ঘটনার ভিডিওচিত্র ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে ঘটনার সত্যতা প্রকাশ করলে কিশোরীর পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি ও অপদস্থ করার ভয়ভীতি দেখানো হয়।
তবে ঘটনার নির্মমতা এখানেই শেষ হয়নি; গত তিন-চার দিন আগে ধারণকৃত সেই ভিডিওটি মোবারক সরদার সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঘটনার বিচারিক মীমাংসার লক্ষ্যে কিশোরীর বাড়িতে একটি সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হলেও কোনো কার্যকর সমাধান ছাড়াই তা ভেস্তে যায়।
ঘটনার পরদিন সকালে অভিযুক্ত মোবারক সরদার ভুক্তভোগী পরিবারকে উল্টো হুমকি-ধামকি দিয়ে তাদের দেখে নেওয়ার ভয় দেখান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন আশপাশের মানুষজন। স্থানীয় জনতা জড়ো হয়ে তাকে গণপিটুনি দেয় এবং পরবর্তী সময়ে থমথমে পরিস্থিতিতে পুলিশ এসে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে।
সন্তানের চরম অবমাননা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা উল্লেখ করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, “আমার অবুঝ মেয়েটির জীবন আজ হুমকির মুখে। আমি এই নরপিশাচের দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।” মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক জানান, এ বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং ভুক্তভোগীর বাবার দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

