বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গোপনে কোনো যোগাযোগ রাখছেন কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক বক্তব্য ও অবস্থানের বিচারে বর্তমানে শেখ হাসিনা ও জামায়াত আমিরের মুখের ভাষার মধ্যে কোনো দৃশ্যমান পার্থক্য পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
ঝিনাইদহের সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জুমার নামাজ আদায় শেষে স্থানীয় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময়কালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারতের রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, ভারত সরকার যেভাবে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে বারবার আতিথেয়তা ও রাষ্ট্রীয় বার্তা পাঠাচ্ছে, ঠিক একইভাবে যদি জামায়াত আমিরকেও সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হতো, তবে তিনি অনেক আগেই দিল্লি পৌঁছে যেতেন।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ষড়যন্ত্রের শঙ্কা তুলে ধরে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা এবং তাঁর দল আওয়ামী লীগ এখন মূলত জামায়াতের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে। জামায়াত কীভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে, আর সেই অশান্ত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগ কীভাবে পুনরায় রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হতে পারে-তা নিয়ে গভীর চক্রান্ত চলছে। আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনার পাশাপাশি একই সময়ে জামায়াত কর্তৃক সরকার পতনের আন্দোলনের যে ঘোষণা এসেছে, তাকে কাকতালীয় ঘটনা হিসেবে দেখতে নারাজ তিনি।
রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে জামায়াতের অবস্থানকে সন্দেহজনক উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন বলেন, একটি লংমার্চ শেষ হতে না হতেই তারা নতুন করে আবারও লংমার্চ কর্মসূচির পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। দলীয় কিংবা গোষ্ঠীগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য জামায়াতে ইসলামী যেকোনো সময় তাদের চরম শত্রুভাবাপন্ন পক্ষের সঙ্গেও হাত মেলাতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিতে সারা দেশের সচেতন জনগণকে সজাগ ও সতর্ক থাকার জোর আহ্বান জানান তিনি।

