ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় কেঁপে উঠেছে দক্ষিণ লেবাননের একাধিক সীমান্ত শহর ও পাহাড়ি এলাকা। শুক্রবার ভোরে দেশটির খিয়াম ও নাবাতিয়ে অঞ্চলে বিকট শব্দে একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। আচমকা এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সমগ্র দক্ষিণ লেবাননজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশ কিছু বেসামরিক স্থাপনা ও সামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির (এনএনএ) বরাত দিয়ে জানা যায়, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো একই সঙ্গে আল-মনসুরি, সোয়ার এবং মাজদাল জৌনের সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় ভারী বোমারু হামলা চালায়। একই সময়ে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কান্তারা শহরের পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি এলাকায় একের পর এক মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়। পরবর্তীতে নাবাতিয়ে আল-ফাওকা অঞ্চলকে লক্ষ্য করে পুনরায় নতুন দফায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, খিয়ামের পূর্বাঞ্চলীয় ভূগর্ভস্থ এলাকায় হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত কৌশলগত সামরিক টানেলগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে এসব হামলা চালানো হয়। বিমান বাহিনীর সুনির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে ওই টানেল ও বাঙ্কারগুলো সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে বলে তেল আবিব দাবি করেছে। লেবাননের সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, নাবাতিয়ে আল-ফাওকার নিকটবর্তী ঐতিহ্যবাহী আলি তাহের পাহাড়ে হওয়া এই বিস্ফোরণটি চলতি বছরের মার্চে ইসরায়েলি বাহিনীর দখলাভিযান শুরুর পর অন্যতম বৃহৎ ও বিধ্বংসী বিস্ফোরণ ছিল।
সীমান্তজুড়ে সংঘাত ব্যাপক মাত্রায় বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের নতুন সীমান্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আবাসিক এলাকার কাছেই এই ধরনের বড় আকারের হামলা লেবাননের সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং নতুন করে আঞ্চলিক রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়াতে অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দিচ্ছেন সামরিক পর্যবেক্ষকেরা।

