প্রধান খবর

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে: যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের ৫টি তেল ট্যাংকার ধ্বংস

ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র পাল্টা জবাব হিসেবে দেশটির পাঁচটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার গুঁড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। ওমান সাগর এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপের সন্নিকটে সামরিক অভিযান চালিয়ে এসব ট্যাংকার ধ্বংস করা হয়। মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের হামলার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেয় ওয়াশিংটন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, বিগত দুই দিনে মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করে পর পর দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় আইআরজিসি। তবে ওই হামলায় মার্কিন বাহিনীর কোনো ক্ষতি বা সদস্য হতাহত হয়নি। এর সরাসরি জবাবে ওমান সাগরে ‘এম/টি কাভিজ’, ‘এম/টি চারমিনার’, ‘এম/টি হরাইজন ১’, ‘এম/টি রিয়েসকো’ এবং খার্গ দ্বীপের কাছাকাছি অবস্থিত ‘এম/টি দরিয়া’ নামের পাঁচটি ট্যাংকার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। সেন্টকমের দাবি, সমুদ্রে থাকা এই ট্যাংকারগুলো আইআরজিসির সামরিক ও আর্থিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

বিবৃতিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী আরও উল্লেখ করে, অবৈধ শ্যাডো নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি চোরাচালান করছিল জাহাজগুলো। সেন্টকম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এসব বাণিজ্যিক ও সামরিক সম্পদ রক্ষা করার মতো কোনো সক্ষমতা বর্তমানে তেহরানের নেই। আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় মার্কিন বাহিনীর নিয়মিত টহল জোরদার রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর একটি মার্কিন রণতরী ও ধ্বংসকারী জাহাজে হামলার ব্যর্থ চেষ্টার জবাবে আরও তিনটি ইরানি ট্যাংকার ধ্বংস করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। একের পর এক সামরিক অভিযানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় নতুন করে চরম উত্তেজনা ও যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনিয়ে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *