প্রধান খবর

সিডনিতে ‘ভয়েস ফর নেপাল’ : কবিতায় বন্যায় নিহতদের স্মরণ

নেপালে সাম্প্রতিক আকস্মিক ও ভয়াবহ বন্যায় প্রাণ হারানো মানুষের স্মরণে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাতে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে আয়োজিত হয়েছে এক আবেগঘন কবিতা সন্ধ্যা-‘ভয়েস ফর নেপাল: পোয়েট্রি অব সলিডারিটি অ্যান্ড হোপ’। বহুসাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের মধ্য দিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও কবিতার ছন্দে মানবিকতার এক অনন্য বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিডনির গ্লেনউড হাবে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ স্মৃতি তর্পণ ও সংহতি সভায় নেপালি, বাংলাদেশি, ভারতীয়, পাকিস্তানি, শ্রীলঙ্কান, ফিলিপিনো ও ভুটানি সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও জাতীয়তার মানুষ একজোট হন। ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে দুর্যোগ ও শোকের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে সার্বজনীন মানবিক আবেদন, এই সভার মূল সুর ছিল সেটাই। অনুষ্ঠানে স্থানীয় কাউন্সিলর এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে অস্ট্রেলিয়ার বহুসাংস্কৃতিক সমাজের একাত্মতা প্রকাশ করেন।

আয়োজনের প্রধান আকর্ষণ ছিল বহুভাষিক কবিতা পাঠের পর্ব, যা উপস্থিত দর্শকদের গভীরভাবে স্পর্শ করে। নয়জন ভিন্নভাষী কবি নিজ নিজ মাতৃভাষায় কবিতা পাঠের মাধ্যমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুঃখ, সহমর্মিতা এবং ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। নেপালি, হিন্দি, উর্দু, তেলুগু, ভুটানি, পাঞ্জাবি এবং বাংলা ভাষায় কবিতা আবৃত্তি করা হয়। ভাষা ও প্রকাশের ধরন ভিন্ন হলেও প্রতিটি কবিতার ছত্রে ছত্রে প্রতিধ্বনিত হয়েছে একই মানবিক অনুভূতি ও বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের বাণী।

কবিতা পর্বের পর বক্তব্য পর্বে প্রবাসী বিভিন্ন কমিউনিটির প্রতিনিধিরা তাঁদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নেপালের বন্যাদুর্গতদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন। তাঁরা অঙ্গীকার করেন যে, দুর্যোগের এই কঠিন মুহূর্তে কেবল শোক প্রকাশ নয়, দূর থেকেও কীভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া যায় সে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। বক্তব্য শেষে মোমবাতি ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে এক নীরব শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

প্রদীপের শিখার আলোর মতো শোককে শক্তিতে পরিণত করে নতুন আশার আলো জ্বালানোর মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে। ‘ভয়েস ফর নেপাল’ কেবল একটি কবিতাপাঠের অনুষ্ঠান হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এটি রূপ নেয় বহুভাষিক ও বহুজাতিক সংস্কৃতির ঐক্য এবং দুর্যোগের বিরুদ্ধে মানবিকতার শক্ত অবস্থান প্রদর্শনের এক অনবদ্য প্রতীকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *