প্রধান খবর

ফ্রিজে মিলল স্ত্রীর কাটা মাথা, স্বামীর আত্মসমর্পণ

ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটিতে বিয়ের মাত্র কয়েক মাসের মাথায় এক তরুণীকে নির্মমভাবে হত্যার পর তাঁর মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করার এক লোমহর্ষক ঘটনা সামনে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহের অংশবিশেষ ফ্রিজে লুকিয়ে রেখেছিলেন অভিযুক্ত স্বামী। পরবর্তীতে অভিযুক্ত নিজেই স্থানীয় থানা-পুলিশের কাছে গিয়ে আত্মসমর্পণ করলে পুলিশ তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করে। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে গুয়াহাটি শহরের বেলতলা এলাকার বশিষ্ঠপুরের এক আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে।

নিহত ওই তরুণীর নাম রিয়া তালুকদার (২৫)। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী রামানুজন গোস্বামীকে গ্রেপ্তার করে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করেছে স্থানীয় পুলিশ। পুলিশ ও প্রতিবেশীদের সূত্রে জানা যায়, গত ৬ সেপ্টেম্বর ওই দম্পতির ফ্ল্যাট থেকে হঠাৎ প্রচণ্ড দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। ফ্ল্যাটে টানা দুই দিন ধরে তাঁদের উপস্থিতি না পেয়ে এবং মোবাইল ফোনে যোগাযোগে ব্যর্থ হয়ে প্রতিবেশীরা দ্রুত থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ এসে বন্ধ দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে তরুণীর বীভৎস ও খণ্ড-বিখণ্ড পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করে।

তল্লাশির একপর্যায়ে তদন্তকারী কর্মকর্তারা ঘরের ফ্রিজ খুলে একটি পলিথিনের ব্যাগে মুড়িয়ে রাখা নিহতের কাটা মাথা উদ্ধার করতে সক্ষম হন। সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের হাতের আঙুলসহ বেশ কিছু অঙ্গপ্রতঙ্গ কেটে ফেলার প্রমাণ মিলেছে। মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত রামানুজন পলাতক থাকলেও রোববার রাতে নিজেই পুলিশের কাছে গিয়ে ধরা দেন।

এই ভয়াবহ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল নেপথ্য কারণ বা পারিবারিক কোনো কলহ ছিল কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে গভীর জিজ্ঞাসাবাদ পরিচালনা করা হচ্ছে। অতি দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে ঘটনার পেছনের মূল রহস্য উদঘাটন ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *