ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় পাপুয়া প্রদেশের পানিয়াই শহরের একটি জনবহুল স্থানীয় বাজারে মধ্যরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রোববার গভীর রাতে আকস্মিকভাবে ছড়িয়ে পড়া এই ভয়াবহ আগুনে শিশুসহ অন্তত ১১ জনের করুণ মৃত্যু হয়েছে। নিহতের সংখ্যা এবং বিপুল ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম গালফ নিউজ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর মুখপাত্র হেনরি জে মানুরং এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানান, গভীর রাতের দিকে বাজারের একটি ‘শপহাউস’ বা দোকান ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। দেখতে দেখতে আগুনের লেলিহান শিখা আশেপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই ১১ জন মারা যান, যার মধ্যে পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং বাকি ছয়জনই অবোধ শিশু। নিহত শিশুদের বয়স ছিল মাত্র দুই থেকে নয় বছরের মধ্যে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের একাধিক অগ্নিনির্বাপক ট্রাক ও ওয়াটার ক্যানন মোতায়েন করা হয়। তবে বাজারের দোকানগুলো অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ ও একে অপরের সঙ্গে লাগোয়া হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের প্রায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় বেগ পেতে হয়। ততক্ষণে বাজারের প্রায় ৪০টি দোকান, কিওস্ক এবং সংলগ্ন বসতবাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে ব্যাপক তদন্ত শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ঘনবসতি এবং নিম্নমানের অগ্নি-সুরক্ষা ব্যবস্থার কারণে ইন্দোনেশিয়ায় এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। এর আগে গত ডিসেম্বরে সেন্ট্রাল জাকার্তার একটি কার্যালয়ে ড্রোন ব্যাটারি বিস্ফোরণে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ২০২৩ সালে একটি নিকেল প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১২ জন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছিলেন।

