সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং তাঁর স্ত্রী রুক্ষ্মীলা জামানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবৈধ সম্পত্তি, ব্যাংক হিসাব ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত নথি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠিয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তির (এমএলএআর) মাধ্যমে দুদক থেকে পাঠানো আবেদনের প্রেক্ষিতে মার্কিন সেন্ট্রাল অথরিটির তত্ত্বাবধানে এফবিআই এই তদন্ত রিপোর্ট পাঠায়। সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।
দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা তুলে ধরা হয়। সাবেক মুখ্য সচিব এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. আহমেদ কায়কাউসের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগকে আলোচিত ‘আদানি পাওয়ার লিমিটেড’ বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির দুর্নীতির চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিমের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগটি নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের মামলার সঙ্গে যুক্ত করে অনুসন্ধানের সুপারিশ করা হয়েছে।
একই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে অনভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান থেকে অতিরিক্ত মূল্যে ওয়াকিটকি ক্রয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের অভিযোগে নতুন করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে এবং তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অর্থ পাচার রোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বড় সাফল্য হিসেবে নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, নাসরিন ইসলাম ও ওয়ান প্রোপার্টি লিমিটেডের যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘আইল অব ম্যান’-এ থাকা সমস্ত সম্পদ অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করেছে বলে দুদক নিশ্চিত করেছে।
সাইফুজ্জামান দম্পতির বিদেশে অপরাধলব্ধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও জব্দ করার প্রক্রিয়া এফবিআইয়ের দেওয়া এই নতুন তথ্যের ভিত্তিতে আরও বেগবান হবে বলে মনে করছে দুদক। আন্তর্জাতিক পরাশক্তি ও বিদেশি সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথ আইনি সহায়তার মাধ্যমেই পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা ও অভিযুক্তদের আইনের মুখোমুখি করার এই আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

