রংপুর নগরীর দাসপাড়া এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে বর্বরোচিতভাবে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের জোরালো অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, পুরো হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন পিসতুতো ভাই সিদ্ধার্থ দাস। আদালতের বিশেষ অনুমতি নিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মঙ্গলবার রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে মামলার মূল দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে প্রথম দফায় ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।
তদন্তকারী সংস্থা রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) দুই আসামির মোবাইল ফোনের অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) হস্তগত করেছে। ১৯ থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত ৮০ ঘণ্টার কল রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের মধ্যে মোট ৮০ বার ফোনে কথা হয়েছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১২ ঘণ্টা আগে সিদ্ধার্থ তার দুটি পৃথক নম্বর থেকে মুগ্ধের একটি নম্বরে ৩০ বার ফোন করেছিলেন। এসব ফোনকলের প্রতিটির স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ১১ থেকে ১৭ সেকেন্ড। স্বল্প সময়ের এই ফোনালাপ এবং কয়েকটি কলে একাধিক ব্যক্তির উপস্থিতির কারণে পুরো পরিকল্পনাটি যে সুদূরপ্রসারী ও পূর্বপরিকল্পিত, সে বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন গোয়েন্দারা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সিদ্ধার্থের পরিবার গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির লাগোয়া জমিটি সম্প্রতি ৩৫ লাখ টাকায় স্থানীয় এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে ভারতে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল। জমি সংক্রান্ত লেনদেন ও অন্য কোনো গভীর স্বার্থের সংযোগ এই চার খুনের পেছনে মূল প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এটি কোনো তাৎক্ষণিক বা নিছক নেশাগ্রস্ত অবস্থার অপরাধ নয়; বরং অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিত একটি হত্যাকাণ্ড। আসামিরা বেশ কিছু তথ্য গোপন করায় বুধবার তাদের আবারও দ্বিতীয় দফায় কারা ফটকে জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছোট ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর (১২) গলাকাটা ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেছিল পুলিশ। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আসামিদের নতুন তথ্য ও কল রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে মামলার পূর্ণাঙ্গ রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।

