ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের সিরিক এলাকায় একটি আনন্দঘন বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়ার ঘটনাকে স্পষ্ট ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে তীব্র আখ্যা দিয়েছে তেহরান। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করে এই আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদান করেন।
ইসমাইল বাঘাই তাঁর পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, হরমোজগানের সিরিক এলাকায় সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের বিয়ের উৎসব চলাকালে হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো ‘অবৈধ যুদ্ধের’ প্রকৃত ও বিভৎস চেহারা বিশ্ববাসীর সামনে আবারও উন্মোচিত হয়েছে। নিজদের সামরিক ব্যর্থতা ঢাকতে ও কৌশলগত চাপ থেকে বাঁচতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নির্দ্বিধায় সাধারণ নিরীহ নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে এ ধরনের বর্বর হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এর আগে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয় যে, কুহেস্তাক অঞ্চলের একটি আবাসিক ভবনে পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে হামলাটিতে এ পর্যন্ত অন্তত চারজন নিহত এবং ৫০ জনেরও বেশি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। মর্মান্তিকভাবে নিহতদের মধ্যে এক নিষ্পাপ শিশুও রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাঘাই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের এই ভয়াবহ ঘটনাকে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সুস্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
তবে ওয়াশিংটনের মার্কিন সামরিক বাহিনীর দপ্তর (সেন্টকম) দাবি করেছে, তাদের পরিচালনা করা প্রতিটি অভিযানই ছিল সুনির্দিষ্ট সামরিক অবকাঠামো কেন্দ্রিক। তাদের ভাষ্যমতে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, সমুদ্র মাইন স্থাপনের সামরিক সক্ষমতা এবং যোগাযোগ টাওয়ার লক্ষ্য করে এই হামলাগুলো চালানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের এমন প্রত্যক্ষ হামলা-পাল্টা হামলা এবং বেসামরিক নাগরিক হতাহতের ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের ঝুঁকি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।

