দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের পাহাড়সম ৫১২ রানের জবাব দিতে নেমে চরম চাপের মুখে পড়েছিল বাংলাদেশ ‘এ’ দল। তবে অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়ের অবিশ্বাস্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় ম্যাচে তৈরি হয়েছে ঐতিহাসিক এক প্রেক্ষাপট। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিকে ট্রিপল সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখিয়ে নিয়েছেন এই তরুণ ব্যাটার।
মাত্র ৪৫০ বল খেলে ৩০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন হৃদয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে ট্রিপল সেঞ্চুরি করার এক দুর্লভ নজির গড়লেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার গতিময় বোলিং আক্রমণকে চুরমার করে দিয়ে দলকে কেবল ম্যাচেই ফেরাননি, বরং প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে বড় লিডের দিকে নিয়ে যাওয়ার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছেন এই অধিনায়ক।
হৃদয়ের এই ঐতিহাসিক মহাকাব্যিক ইনিংস গঠনের যাত্রায় সমান অবদান ছিল জাকের আলীর। পঞ্চম উইকেটে দুজনে মিলে ১৫১ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল জুটি গড়ে দলকে বিপর্যয় থেকে টেনে তোলেন। তবে জাকের আলী দুর্ভাগ্যের শিকার হয়ে মাত্র ছয় রানের জন্য সেঞ্চুরি বঞ্চিত হন; তিনি ১৬৮ বলে ৯৪ রানের এক উজ্জ্বল ইনিংস উপহার দেন।
জাকের বিদায় নেওয়ার পর অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে সঙ্গী করে তাণ্ডব অব্যাহত রাখেন হৃদয়। ষষ্ঠ উইকেটে তাদের ১৮৫ রানের লড়াকু জুটি বাংলাদেশকে বিশাল লিড এনে দিতে সাহায্য করে। সাইফউদ্দিন ১৭১ বলে ৮৭ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলে আউট হন। এর আগে ম্যাচের শুরুতে প্রথম ইনিংসে লেসেগো সেনোকওয়ানের ১১১ ও সিনেথেম্বা কেশিলের ১২৮ রানের সুবাদে ৫১২ রানের পাহাড় গড়েছিল সফরকারী দলটি। তৃতীয় দিন শেষে ৩৭১ রানে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে শেষ দিনে সম্পূর্ণ নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছে দেন অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়।

