দেশজুড়ে আলোচিত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার প্রধান দুই সন্দেহভাজন সাবেক সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা (ইন্টারপোল)। অভিযুক্ত দুজন হলেন- সেনাবাহিনীর সাবেক সার্জেন্ট মো. জাহিদুজ্জামান (৪৮) এবং সাবেক সৈনিক মো. শাহীন আলম (৩৭)।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি-ঢাকা) মাধ্যমে এই রেড নোটিশ জারির বিষয়টি দ্য ডেইলি স্টারকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) খন্দকার রফিকুল ইসলাম। মামলাটির মূল তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সুনির্দিষ্ট সুপারিশের ভিত্তিতে ইন্টারপোলের আন্তর্জাতিক সদর দপ্তর এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
গোয়েন্দা সংস্থা ও এনসিবি কর্মকর্তাদের ধারণা, অপরাধ সংঘটিত করার পর অভিযুক্ত জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলম বর্তমানে সৌদি আরবে আত্মগোপন করে আছেন। ইন্টারপোলের মাধ্যমে জারি করা রেড নোটিশের অনুলিপি এবং গ্রেপ্তার সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সকল দাপ্তরিক নথিপত্র ইতোমধ্যে সৌদির সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পালিয়ে থাকা আসামিদের চিহ্নিত করে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার পথ সুগম হলো।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা ময়নামতি সেনানিবাসের সীমানা ঘেরা জঙ্গল থেকে তনুর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত ও তদন্ত কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তনুকে পাশবিকভাবে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। দীর্ঘ দিন সিআইডিসহ একাধিক সংস্থা মামলার তদন্ত করলেও কোনো দৃশ্যমান কূলকিনারা করতে পারেনি। পরবর্তীতে ২০২০ সালে পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব নেয় এবং সম্প্রতি পিবিআই পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তদন্ত কাজ বেগবান করেন। দীর্ঘ আট বছর পর ইন্টারপোলের এই পদক্ষেপে ভুক্তভোগী পরিবার ও দেশবাসীর মনে ন্যায়বিচারের নতুন আশার আলো সঞ্চারিত হয়েছে।

