সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে দিনভর দেশজুড়ে তোলপাড় ও একের পর এক সংবাদ প্রকাশের পর নিজেদের বক্তব্যে সংশোধন এনেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সকালে অভিযোগের আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধানের খবরের পর বিকেলে দুদকের মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা বললেও পরবর্তীতে সাংবাদিকদের কাছে উক্ত শব্দমালা ব্যবহার না করার অনুরোধ জানান।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন কর্মকর্তা নিয়োগ, বদলি বাণিজ্য, পদোন্নতি এবং পছন্দের জায়গায় পদায়নের অনিয়ম খতিয়ে দেখতে দুদকের অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে। পরবর্তীতে দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক ও মুখপাত্র আকতারুল ইসলামের বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ‘প্রাথমিক প্রমাণ’ পাওয়ার সংবাদ প্রচারিত হতে থাকে।
তবে সংবাদগুলো গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হওয়ার কিছুক্ষণ পর সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে বার্তা পাঠিয়ে আকতারুল ইসলাম জানান, কথা বলার সময় তিনি ভুলবশত ‘প্রাথমিক সত্যতা’ শব্দটি উচ্চারণ করে ফেলেছেন। গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়ে তিনি লেখেন, “পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে স্রেফ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। অসাবধানতাবশত ‘প্রাথমিক সত্যতা’ শব্দটি বলে ফেলেছি, তাই প্রতিবেদনে এটি ব্যবহার না করতে এবং ভিডিও রেকর্ড থাকলে তা এডিট করে বাদ দিতে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।”
উল্লেখযোগ্য যে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদের বিরুদ্ধেও ১৮৮ জন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদায়ন কেন্দ্রিক আর্থিক লেনদেনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগসমূহ গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে চার সদস্যের একটি বিশেষ অনুসন্ধান টিম গঠন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। মুখপাত্রের এই বক্তব্যের সংশোধনের ফলে সাবেক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রাথমিক আইনি ভিত্তি নিয়ে রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

