মধ্যপ্রাচ্যের চেনা অস্থিরতা এবার এক চরম ও আশঙ্কাজনক মোড় নিয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সংঘাতের মাত্রা ছাড়িয়ে রক্তক্ষয়ী এই উত্তাপ এখন একযোগে ছড়িয়ে পড়ছে পুরো অঞ্চলে। সাম্প্রতিক তীব্র সামরিক উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় কুয়েত, জর্ডান এবং বাহরাইনের একাধিক কৌশলগত স্থানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এই একযোগে চালানো একের পর এক হামলায় গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক অভূতপূর্ব যুদ্ধ আতঙ্ক বিরাজ করছে।
কুয়েত সামরিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে শত্রুপক্ষের আকাশপথে চালানো হামলা মোকাবিলা করে যাচ্ছে। মাঝ আকাশে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ায় মধ্যরাতে কুয়েতের আকাশে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, এই বিকট শব্দগুলো মূলত ধেয়ে আসা ড্রোনগুলো সফলভাবে ধ্বংস করার ফল। আপাতত আকাশসীমার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে জর্ডান সীমান্তেও ছিল একই ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। দেশটির আকাশসীমায় বিপজ্জনকভাবে প্রবেশ করা মোট ১৩টি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে অন্তত ১০টি ক্ষেপণাস্ত্রকেই জর্ডানি সেনাবাহিনী মাঝ আকাশে গুলি করে সফলভাবে ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়। জর্ডান কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, লক্ষ্যচ্যুত বা অবশিষ্ট তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র লোকালয় থেকে বহু দূরে একটি নির্জন ও প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে আঘাত হেনেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
অন্যদিকে, সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাহরাইনের পরিস্থিতি। দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থান ‘শেখ ঈসা বিমান ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে ব্যাপক ও বিধ্বংসী ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক অবকাঠামো এবং সংবেদনশীল রাডার কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে এই ধারাবাহিক আক্রমণ চালানো হয় বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে। হামলার পর সম্ভাব্য ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানি এড়াতে বাহরাইন সরকার জরুরি অবস্থা জারি করে বেসামরিক সাধারণ বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একযোগে তিন দেশে ইরানের এই আকস্মিক ও সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের পর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আর কোনো নির্দিষ্ট সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই। উদ্ভূত এই পরিস্থিতি যদি দ্রুত কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রণে আনা না যায়, তবে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক যুদ্ধ এবং নজিরবিহীন মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

