মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এবং শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের ষষ্ঠ ইমাম জাফর সাদিক (আ.)-এর পবিত্র জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ইরানের বিভিন্ন আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত ২ হাজার ৫৭৭ জন বন্দীর সাজা মওকুফ কিংবা কমানোর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।
ধর্মীয় এই বিশেষ ও তাৎপর্যপূর্ণ দিনটি উদযাপনের অংশ হিসেবে ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেন মোহসেনি এজেয়ি সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের ক্ষমা ও সাজা কমানোর একটি প্রস্তাব পেশ করেন। বিচার বিভাগের প্রধানের সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই সর্বোচ্চ নেতা এই প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন দান করেন। উল্লেখ্য, হিজরি পঞ্জিকা অনুযায়ী রবিউল আউয়াল মাসের ১৭ তারিখ বিশ্বনবী (সা.) ও ইমাম জাফর সাদিক (আ.)-এর জন্মবার্ষিকী বিশ্বজুড়ে পালিত হয়ে থাকে।
ইরানের সংবিধানের ১১০ নম্বর অনুচ্ছেদের বিশেষ ক্ষমতাবলে দেশটিতে সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের দণ্ড মওকুফ কিংবা সম্পূর্ণ ক্ষমা করার এই একক এখতিয়ার রয়েছে কেবল সর্বোচ্চ নেতার হাতে। তবে বিচার বিভাগ কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাব সুপারিশ আকারে পেশ করতে হয়।ইরানি বিচার বিভাগের স্পষ্ট ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই বিশেষ ক্ষমা কিন্তু সব ধরনের অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ক্ষেত্রে ঢালাওভাবে প্রযোজ্য হবে না। সমাজের নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলে এমন গুরুতর অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিবর্গ এই আদেশের আওতাবহির্ভূত থাকছেন।
বিশেষ করে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ, সংঘবদ্ধ ও অস্ত্রসহ মাদক চোরাচালান, সশস্ত্র ডাকাতি, বেআইনি অস্ত্র পাচার, অপহরণ এবং ঘুষ ও রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের মতো অপরাধে দণ্ডিতরা এই সাধারণ ক্ষমা বা সাজা হ্রাসের সুবিধা পাচ্ছেন না।তদন্ত ও প্রাথমিক শর্ত পূরণ সাপেক্ষে চিহ্নিত নির্দিষ্ট ২ হাজার ৫৭৭ জন কারাবন্দীই এই মানবিক ও ধর্মীয় ক্ষমার চূড়ান্ত সুফল পেতে যাচ্ছেন বলে ইরানের বিচার বিভাগ নিশ্চিত করেছে।

