রংপুরে চার খুনের মামলায় জবানবন্দি দেওয়া আসামি সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস ও ভাই পার্থ দাসকে আটক করার সাড়ে চার ঘণ্টা পর মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার (২৯ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয় থেকে মুচলেকা সম্পাদন সাপেক্ষে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। এর আগে, শনিবার সন্ধ্যার পর নগরীর মাছুয়াপাড়ার নিজ বাসা থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়েছিল।
আটকের আগে সেখানে সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত এক স্থানীয় সাংবাদিকের ওপর চড়াও হওয়া ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে।
ডিবি কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় পার্থ দাসকে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা যায়। তবে সেখানে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে পার্থ দাস জানান, আটকের সময় পলায়নের চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি পায়ে আঘাত পান। সেখানে তাদের কোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন বা টর্চার করা হয়নি, কেবল প্রয়োজনীয় প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। অন্যদিকে বিনয় দাস জানান, আটকের পর আতঙ্কে থাকলেও পরবর্তীতে ডিবি কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে সহযোগিতা করার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার বিষয়ে গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনে আসামি সিদ্ধার্থের বাবা ও ভাইকে ইতিপূর্বে একাধিকবার মোবাইল ফোন ও প্রতিনিধি মাধ্যমে তলব করা হয়েছিল। তারা উপস্থিত না হওয়ায় বাধ্য হয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের কার্যালয়ে আনা হয়। সেখানে তারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, যা বর্তমানে নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পরবর্তীতে তদন্তের প্রয়োজনে আবারও উপস্থিত হওয়ার লিখিত প্রতিশ্রুতিতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট ভোররাতে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, কন্যা আগামী চক্রবর্তী এবং পুত্র আয়ুষ চক্রবর্তী নিজ বাড়িতে নির্মমভাবে খুন হন। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়েরের পর প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়, যারা পরবর্তীতে আদালতে ১৬৪ ধারায় ইয়াবা সেবনের দৃশ্য দেখে ফেলায় চারজনকে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। এ মামলায় বর্তমানে আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা, ডিএনএ এবং ডোপ টেস্টের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

